শাহীনূর রহমান,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার আগমন, উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। উনার এই সফর মূলত ঠাকুরগাঁও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ছিল। এই প্রোগ্রামগুলোর সম্ভাব্য সুফলগুলো হলো,
মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বুড়ির বাঁধ মৎস্য চত্বরে মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অবৈধ জাল উৎপাদন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। এতে করে স্থানীয় নদী-নালা এবং অন্যান্য জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত হবে, যা মৎস্যজীবীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে। ইলিশ মাছের সরবরাহ বৃদ্ধিতে
উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছেন যে, দেশের চাহিদা পূরণের পরই ইলিশ মাছ রপ্তানি করা হবে। তিনি আরও জানান, ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতেও ইলিশের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর ফলে এখানকার মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে ইলিশ পৌঁছে যাবে।
দেশীয় জাতের প্রাণী রক্ষা
প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য উপদেষ্টা দেশীয় জাতের মুরগিসহ অন্যান্য প্রাণীর সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এটি স্থানীয় পশুপালকদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। দেশীয় জাতের প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ করা গেলে স্থানীয়ভাবে আমিষের চাহিদা পূরণ সহজ হবে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে সাহায্য করবে। প্রাণিসম্পদ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা।
ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রাণিসম্পদ খাতের কিছু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেমন: গবাদিপশুর খাবারের অভাব, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ঘাটতি এবং সঠিক বাজারজাতকরণের সমস্যা। উপদেষ্টার এই সফর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা এই সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে। ভবিষ্যতে পশুখাদ্যের মান নিশ্চিত করা, রোগ নিয়ন্ত্রণ, এবং খামারিদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত কার্যক্রম, উপদেষ্টা স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্যজীবী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যাবে। সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে অবৈধ কার্যক্রম যেমন কমে আসবে, তেমনি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
সংক্ষেপে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার এই সফর ঠাকুরগাঁওয়ের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে। এর ফলে মাছ ও পশুপালনে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার, রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা, এবং স্থানীয় সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

