নুর মোহাম্মদ কাকাঃ
আইন-কানুন থাকলেও নেই কার্যকর প্রয়োগ, অপরাধীরা পাচ্ছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়।
বাংলাদেশে মানব পাচার, মাদক ও নারীর নির্যাতন আজ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা ও বিভিন্ন আইনি উদ্যোগ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন নেই। অপরাধীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে সমাজ প্রতিদিন নতুন সংকটে পড়ছে।
বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় একটি দেশ। কিন্তু উন্নয়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে তিনটি কলঙ্ক—মানব পাচার, মাদক এবং নারীর নির্যাতন। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে এসব অপরাধের খবর। তবুও প্রতিকার নেই, ন্যায়বিচার অধরাই থেকে যাচ্ছে।
মানব পাচারকারী ও প্রভাবশালীর সখ্য
প্রতিবছর উন্নত জীবনের আশায় হাজারো নারী-পুরুষ বিদেশে যায়। এদের মধ্যে অনেকে প্রতারক দালালের খপ্পরে পড়ে পাচারের শিকার হয়। মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নারীদের পাচারের ঘটনা আজ অস্বাভাবিক নয়। অভিযোগ রয়েছে, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ভেতরেই প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়া যায়। ফলে পাচারকারীরা আইনের নাগালের বাইরে থেকে যায়।
মাদক: কুড়ের ঘর থেকে অভিজাত অট্টালিকা।
কয়েক দশক আগে সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমিত আকারে মাদক পাওয়া যেত। আজ পরিস্থিতি ভয়াবহ। ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা থেকে শুরু করে বিদেশি মাদক—সবই দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। মাদক এখন কুড়ের ঘরেও সহজলভ্য। এতে সমাজে অপরাধ বাড়ছে, তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। প্রশ্ন থেকে যায়—সীমান্ত পাহারা কড়া থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক দেশে ঢুকে পড়ে? এখানে শক্তিশালী চক্র ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ার প্রমাণ মিলছে।
নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, পারিবারিক সহিংসতা—সবকিছুই ভুক্তভোগী নারীদের অসহায় করে তুলছে। বিচার চাইতে গেলে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে তারা। মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, অনেকেই ভয়ে মুখ খোলেন না। অন্যদিকে, যেসব নারী সমাজে উচ্চ আসনে, অর্ধপোষাকে বা বড় চেয়ারে আসীন, তারা সাধারণ নির্যাতিত নারীর পাশে দাঁড়ান না। বরং ক্ষমতার খেলায় ব্যস্ত থাকেন। ফলে ভুক্তভোগী নারীদের আর্তনাদ চাপা পড়ে যায়।
সমস্যার মূল কারণ:
রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়, প্রশাসনের ভেতরে দুর্নীতি,
বিচার ব্যবস্থার জটিলতা, সামাজিক উদাসীনতা।।
সমাধানের পথ:
রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিশ্চিত করা।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ।
দ্রুত বিচার কার্যকর করা।
পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি।
নারী ভুক্তভোগীর জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও আইনি সহায়তা সহজলভ্য করা।
মানব পাচার, মাদক ও নারীর নির্যাতন কেবল একটি দেশের সামাজিক সমস্যা নয়; এটি জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংসের হুমকি। উন্নয়ন টেকসই হবে না, যদি এই অভিশাপ থেকে মুক্তি না মেলে। রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে অন্যথায় এই তিন কলঙ্ক আমাদের আগামী প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে।

