রিয়াজুল ইসলাম, হাতিয়া প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় ১৮ হাজার বস্তা সিমেন্টবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। শাহ সিমেন্ট কোম্পানির মালিকানাধীন এমভি চাঁদতারা নামের এ জাহাজটি নারায়ণগঞ্জ থেকে যশোরের নোয়াপাড়া যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে তীব্র স্রোতের মধ্যে অপর একটি কার্গো জাহাজ এমভি জামাল-এর সঙ্গে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
এমভি চাঁদতারার মাস্টার মামুন হোসেন জানান, বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের শাহ সিমেন্ট কারখানা থেকে যাত্রা শুরু করেন তারা। মেঘনা নদী পাড়ি দেওয়ার পর সন্ধ্যা হওয়ায় চাঁদপুর সদরের দোকানঘর এলাকার কাছে জাহাজ নোঙর করেন। বৃহস্পতিবার সকালে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে নদীতে তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে জাহাজটি।
তিনি বলেন, “স্রোতের মধ্যে হঠাৎ পাশের কার্গো জাহাজ এমভি জামাল-এর সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ধাক্কার ফলে ডেকের তলা ফেটে পানি ঢুকে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই জাহাজটি তলিয়ে যায়। তবে আমরা ৮ জন স্টাফ সবাই নিরাপদে আছি।”
স্থানীয়দের সাহসী উদ্ধার অভিযান
নৌপুলিশ হরিনাঘাট ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দাদন মিয়া জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্টাফদের নিরাপদে উদ্ধার করে। ডুবে যাওয়া জাহাজের সঠিক অবস্থানও শনাক্ত করা হয়েছে।
ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের জানান, “জাহাজ ডুবে যেতে দেখে আমরা নৌকা নিয়ে এগিয়ে যাই। দ্রুত স্টাফদের নদী থেকে তুলে আনতে সক্ষম হই।”
মামলা দায়ের
দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হিসেবে কার্গো জাহাজ এমভি জামাল-এর বিরুদ্ধে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন এমভি চাঁদতারার মাস্টার মামুন হোসেন।
ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
ডুবে যাওয়া জাহাজটিতে থাকা ১৮ হাজার বস্তা সিমেন্ট নদীতে নিমজ্জিত হওয়ায় কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। নদীর তীব্র স্রোতের কারণে জাহাজ উদ্ধারে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নদীপথে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতা প্রয়োজন।

