মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি।।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় মাদ্রাসা অধিদপ্তরের ডিজি’র প্রতিনিধির জাল চিঠি,ভুয়া নিয়োগ বোর্ড, ফলাফল শীট এবং ডিজি’র প্রতিনিধির জাল স্বাক্ষরে অবৈধভাবে শিক্ষক-কর্মচারী পদে এমপিও করনের অভিযোগে তিন মাদ্রাসা সুপারের এমপিও সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। একই সাথে কেন তাদের বেতন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না জানতে চেয়ে ৫কর্মদিবসের মধ্যে শোকজের লিখিত জবাব চেয়েছে মাদ্রাসা অধিদপ্তর। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি মাদ্রাসায় জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিও ভূক্তির অভিযোগ উঠলেও তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি কর্তৃপক্ষ। শোকজকৃত মাদ্রাসা গুলোতে একাধিক পদে এমপিও জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেও শোকজ করা হয়েছে একটি করে পদের নিয়োগ নিয়ে।
জানা যায়, উপজেলার বড়ঘাট গমীর উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে কর্মরত অফিস সহকারী মাহফুজার রহমানের পদে এমপিওভুক্ত করা হয় মাদ্রাসা সুপার আব্দুল আউয়ালের কন্যা আক্তারুন্নাহারকে। একই সময় মাহফুজার রহমানকে এমপিও সিটে দেখানো হয় এবতেদায়ি জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের আগষ্ট মাসে মাদ্রাসা অধিদপ্তর আক্তারুন্নাহারের এমপিও বাতিল করে চাকরির শুরু থেকে পাওয়া সব অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেয়। কিন্তু প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য করে মাত্র এক মাস পরই অক্টোবরে আক্তারুন্নাহারকে আবারও সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে এমপিওভুক্ত করা হয়। একই এমপিও সিটে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর (সিএলও) ও সিএলএ পদে আরও দু’জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যদিও ওই মাদ্রাসায় কম্পিউটার ল্যাব বা বিজ্ঞানাগারের বাস্তব অস্তিত্ব নেই। ২০১৬ সাল থেকে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক হলেও তা উপেক্ষা করে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে উক্ত সুপারের বড় মেয়ে আরিফুন্নাহার মুন্নিকেও সহকারি মৌলভী শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত করা হয়।
উপজেলার সিরাজউদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় তিন বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি নেই এবং বর্তমানে এডহক কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল ইমরান। বিধি অনুযায়ী এডহক কমিটির নিয়োগ দেয়ার এখতিয়ার না থাকলেও গত নভেম্বর মাসে নিয়োগের ভুয়া নথিপত্রে নৈশপ্রহরী,আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর তিনটি পদে নতুন এমপিওভুক্তি হয়।
এদিকে বুড়িরহাট আব্দুস ছামাদ মন্ডল দাখিল মাদ্রাসায় অক্টোবর মাসের এমপিও সীটে জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে ১জন ও কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে ১জন সহ ২জনের নাম এমপিও ভূক্ত হয়েছে। এছাড়া আরো ২পদে এমপিও ভূক্তির পায়তারার অভিযোগ উঠে।
একই ভাবে গত সেপ্টেম্বর মাসে এমপিও সীটে উপজেলার কানুরাম সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসায় কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর (সিএলও) পদে ১জন, সিএলএ পদে ১জন ও সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে ১জন সহ ৩জনের নাম জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিও ভূক্ত হয়।
এছাড়া উপজেলার বেশকিছু মাদ্রাসায় কর্মচারী, সহকারি লাইব্রেরিয়ান এমনকি মৌলভি শিক্ষকের নতুন এমপিও হয়েছে। এসব পদে ব্যাকডেটে পূর্বের কমিটির সদস্যগণের জাল স্বাক্ষরে অধিকাংশ নিয়োগ দেখানো হলেও এমপিও হচ্ছে বর্তমান সময়ে।
উপজেলার ডাংরারহাট আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসায় গোপনে কর্মচারীর চারটি পদে নিয়োগের পূর্বেই ৭৫লক্ষ টাকা মুষ বাণিজ্যের অভিযোগে ডিজি’র প্রতিনিধি বন্ধ রেখে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী ও অভিভাবক বৃন্দ।
এভাবে বৈধ নিয়োগ ছাড়াই একটি অসাধু চক্রের যোগসাজসে জাল কাগজে এমপিও ভূক্তির মাধ্যমে কয়েকজন মাদ্রাসা সুপাররা প্রতিটি পদে ১৫লক্ষ থেকে উপরে ২০লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়ে ২০টি পদে নিয়োগ বাণিজ্য করেন। এছাড়া আরও ১৫টি পদে এমপিও বাণিজ্যের পায়তারা চলছে। সহ মিলে এমপিও বাণিজ্যে গত পাঁচ মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে। এরপ্রেক্ষিতে রাজারহাট উপজেলার বড়ঘাট গমীর উদ্দিন ও কানুরাম সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসায় জাল কাগজপত্রে সহকারী মৌলভী শিক্ষক পদে এমপিও ভূক্তির অভিযোগে এবং চাকিরপশার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে মহাপরিচালকের প্রতিনিধির চিঠি জাল করে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড ও ফলাফল শীট তৈরি এবং ডিজির প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে উক্ত সুপারদের বেতন সাময়িক স্থগিত করে কেন স্থায়ী ভাবে তাদের এমপিও বন্ধ করা হবে না জানতে চেয়ে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারঃ) কামরুল ইসলাম উল্লেখিত তিন সুপারকে মাদ্রাসা অধিদপ্তর থেকে শোকজের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সিরাজ উদ্দিন মাদ্রাসায় ব্যাকডেটে নিয়োগ দেখিয়ে এমপিও জালিয়াতির ঘটনা জানিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।

