ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধী :
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পুরাতন ঠাকুরগাঁও আকচা ইউনিয়নে বন্দর পাড়া এলাকায় যৌতুকের টাকার দাবিতে মিতু (২০) নামের আট মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গত শনিবার (৩০ মে, ২০২৬) এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলকে সাথে নিয়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে অভিযুক্ত স্বামী শাহিনুর রহমান চান্দু ও তার পরিবার। অন্যদিকে, নিহত গৃহবধূর দরিদ্র পরিবারটি বিচার পাওয়া এবং আইনি সহায়তার বিষয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
স্থানীয় ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পুরাতন ঠাকুরগাঁও বন্দর পাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহিনুর রহমান চান্দুর সাথে বিয়ে হয় মিতুর। বিয়ের ১৫ মাসপার হলেও টাকার জন্য স্বামীসহ শশুর সকলেই নানা ভাষায় গাল গালমন্দ কুৎসিত কথাবার্তা বলেন, সে থেকেই বিভিন্ন সময় টাকার জন্য মিতুর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। বর্তমানে মিতু আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
গত শনিবার (৩০ মে) টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী শাহিনুর রহমান চান্দু এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিতুর সাথে তীব্র ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে মিতুর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মিতুর মৃত্যুর খবর আসে।কিন্তু পরিবারকে জানানো হয়নি হয়েছে তার একদিন পরে । দরিদ্র পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে মিতুকে হত্যা করা হয়েছে।
মৃত মিতুর লাশটাকে নিয়েও নাটক, যার শেষ নাই প্রভাবশালী মহল পোস্টমর্টেম করাকে নিয়ও হয়রানি করেছে।
ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
মিতুর মৃত্যুর পরপরই ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, স্বামী শাহিনুর রহমান চান্দু ও তার বাবা (মিতুর শ্বশুর) স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে পুরো ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে এবং আইনি প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে দরিদ্র পরিবারটিকে নানামুখী চাপ ও প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে বলেও গুঞ্জন উঠেছে।
নিহত মিতুর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় তারা এখন দিশেহারা। একদিকে সন্তান ও অনাগত নাতি-নাতনিকে হারানোর শোক, অন্যদিকে প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য—সব মিলিয়ে “মিতু হত্যার বিচার আদেও হবে কি না?” এই প্রশ্ন এখন পুরো এলাকায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সহায়-সম্বলহীন এই পরিবারটিকে আইনি লড়াইয়ে কে সাহায্য করবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

