Md Mokter Hossain
15th Jun 2026 4:46 pm | অনলাইন সংস্করণ Print
সামজাদ জসি – সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সরাইল-নাসিরনগর-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বুড়িশ্বর ইউনিয়নের মহাখাল খালের ওপর নির্মিত শতবর্ষী সেতুটি এখন যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা এই সেতুটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চরম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়েই যাতায়াত করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঐতিহাসিক এই সেতুটির মাঝখানে ছোট-বড় অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে। দুই পাশের একাংশ ইতিমধ্যে ভেঙে পড়েছে। ডেকের কংক্রিট উঠে গিয়ে দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে ভেতরের রড। রেলিংয়ের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, যার ফলে সেতুর মূল কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভারী কোনো যানবাহন উঠলেই পুরো সেতুটি বিপজ্জনকভাবে কেঁপে ওঠে।
দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে পাশে একটি অস্থায়ী মিনি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে সেটিও এখন সচল নেই। নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় অস্থায়ী সেতুটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে মূল সেতুটি কোনো কারণে ধসে পড়লে বিকল্প যোগাযোগের সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকাবাসী।
ভোক্তভোগীদের আর্তনাদ: বেণীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সেতু দিয়েই আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাতায়াত করে। প্রতিদিন আতঙ্কে থাকি, কখন জানি সেতুটি ভেঙে পড়ে! ট্রাক বা বাস উঠলে মনে হয় এখনই ধসে যাবে। সিএনজি চালক কুদ্দুস মিয়া জানান, যাত্রী নিয়ে সেতুর ওপর উঠতে ভয় লাগে। গর্তের কারণে চাকা আটকে যায়। ইতিমধ্যে এখানে বেশ কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
থমকে যেতে পারে ৪ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা স্থানীয়রা জানান, নাসিরনগরের সঙ্গে সরাইল ও হবিগঞ্জের সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই মহাখাল সেতু। এটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়লে উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। বিঘ্নিত হবে কৃষিপণ্য পরিবহন, জরুরি রোগী আনা-নেওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্য। ফলে চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবিলম্বে এই পুরোনো সেতুটি ভেঙে একটি নতুন ও টেকসই সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর বিষয়ে জানতে নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মোমেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুঃখজনক মন্তব্য করে বলেন, *”আমি নতুন এসেছি, সেতুটি কোথায় তা আমি চিনি না।”*
অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে কথা বলার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা নাসরিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব এম এ হান্নান। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আমি এখনই নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিচ্ছি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসন দ্রুত এই সেতুটি পুনর্নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের
+88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।

