মু.আ.মা.মানিক – চট্টগ্রাম (ফটিকছড়ি) প্রতিনিধি
উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকা সাংবাদিক সম্মেলন করেন।এতে উপস্থিত ছিলেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব মোঃ শওকত আকবর,বিজিএমইএ ‘র সিনিয়র সহসভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী পিটু,মোঃতৌহিদুল আলম চৌধুরী সভাপতি উত্তর ফটিকছড়ি সমিতি ঢাকা,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হেলাল মোঃ নুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হায়দার চৌধুরী বাবু,গনঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা রবিউল হাসান তানজিম, এডভোকেট মিজানুর রহমান,এডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, এডভোকেট সাইফুদ্দিন আসিফ এবং ঢাকায় বসবাসরত উত্তর ফটিকছড়ির সচেতন নাগরিক সমাজ।
১১ জুলাই বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাট করেন এডভোকেট মিজানুর রহমান,রকিবুল আলম চৌধুরী পিটু বলেন প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করা হয় নাগরিক সুবিধার জন্য প্রত্যান্ত অঞ্চলে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেয়ার জন্য যে এলাকাগুলো অনুন্নত সরকারি সুবিধাবকঞ্চিত,রাশ্তা ঘাট ব্রিজ কালভার্টের কারনে নাগরিকগন অবহেলিত সে সমস্থ জায়গায় সরকারি বরাদ্দ পৌঁছে দেয়া,নাগরিকদের জীবন যাত্রার মান উন্নিত করা,প্রশাসননিক কেন্দ্রবিন্দু স্থাপন করা হয় এমন জায়গায় যেখান দীর্ঘদিন পর্যন্ত নাগরিক গন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত তাদেরকে ন্যায্য অধিকার দেয়ার জন্য।এটা রাষ্টের নিকট ঐ অঞ্চলের নাগরিক অধিকার।
কিন্ত অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় যে উপজেলা নাগরিক সুবিধার বাইরে থেকে স্থাপন করা হবে সে উপজেলা প্রয়োজন নেই।
তৌহিদুক আলম চৌধুরী বলেন যে অঞ্চলের নামে উপজেলা ঘোষণা হয়েছে সে অঞ্চলের যৌক্তক স্থান দাঁআমারা নারায়নহাটের মধ্যবর্তী স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন করতে হবে,এটি উত্তর ফটিকছড়ি বাসীর অধিকার আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।
গনঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা রবিউল হাসান তানজিম বলেন সুদীর্ঘ ২৪ বছর আমরা প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণপর জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছি উত্তরে একটি উপজেলা করার জন্য। এই উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন কোথায় হবে সেটা নিয়ে তৎকালীন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাব্বির রনমান সানি গণশুনানির আয়োজন করেছে,গণশুনানিতে জনগনের সুবিধা কোথায় হবে সরকারী রেভিনিউ কোথায় থেকে বেশি আসে তার উপর ভিত্তি করে সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন প্রেরন করেছেন সে ফরওয়াডিংয়ে সুয়াবিল যুক্ত ছিলনা,সুয়াবিলকে বাদ দিয়ে পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলা গঠনের জন্য আবেদন করেন।
আমরা লক্ষ্য করেছি ৫ ই আগষ্ট পরবতী সময়েও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ও সুয়াবিল ব্যতীত ৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলা গঠনের জন্য প্রস্তাবনা জমা দিয়েছেন।
আমরা অত্যান্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করলাম চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপজেলা থেকে প্রতিবেদন চাওয়া হলে,উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোজাম্মেল হক চৌধুরীর নিকট তখন তিনি জনমতের রায়কে উপেক্ষা করে কোন একটি পক্ষকে খুশি করার জন্য উত্তরে জনগনের অধিকার হরন করে রাতের আধাঁরে কালো টাকার কাছে বিক্রি হয়ে সুয়াবিলকে যুক্ত করে ভুজপুর মৌজায় ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য আবেদন করেন তারই প্রেক্ষিতে ভুজপুর মৌজায় সদর দপ্তর স্থাপন করার গেজেট হয়,অন্য দিকে সুয়াবিল এবং হারুয়ালছড়ির একাংশ ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় তারা আশবেনা মর্মে জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারক লিপি দেন এবং সুয়াবিলবাসী নিয়মিত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে,তারা উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সাথে থাকবেনা কারন সুয়াবিল থেকে ফটিকছড়ির দুরত্ব ২ কি.মি. তিনি একজন উপজেলা প্রশাসক হয়ে কিভাবে এরকম স্পর্শকাতর কাজটি করেছে তার তীব্র সমালোচনাও করেন স্থানীয় জনগন।
আমরা চাই সরকার এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে জনমতের রায়ের উপর ভিত্তি করে পূনবিবেচনা করে নারায়ণহাট দাঁতমারার মধ্যবর্তী যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন করবেন যদি তা না হয় আমরা উচ্ছ আদালতে যাব আন্দোলন করব এই হুশিয়ারীও দেন তানজিম,যে উপজেলা জনগনের কল্যানের হবেনা সে উপজেলা আমাদের প্রয়োজন নেই।
এডভোকেট ইউসুপ আলম মাসুদ বলেন একটি উপজেলা হওয়ার জন্য যে ক্রাইটেরিয়া দরকার ফটিকছড়ি উত্তরে সব ক্রাইটেরিয়াতে পড়ে সেখানে রয়েছে ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী ট্রানজিট সড়ক ও স্থলবন্দর, ঐতিহ্যবাহী হেঁয়াকো বাজার যাকে উত্তর চট্রগ্রামের বানিজ্যিক রাজধানী বলা হয়।সেখানে আরো রয়েছে দুইটি ডিগ্রি কলেজ একটি ডিগ্রি মাদ্রাসা,এস এস সি ও দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্র অসংখ্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসা, উচ্চবিদ্যালয়,সরকারী ভুমি অফিস সাবরেজিস্ট্রি অফিস,বন অফিস বিজিবি কেম্প,রাবার শিল্প,পল্লী বিদ্যুকেন্দ্রের জোনাল অফিসসহ অসংখ্য সরকারী বেসরকারি ব্যাংক বীমা অফিস।
ফটিকছড়ি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরকারী রাষ্ট্রের কোষাগারে রাজস্ব আদায়ের অন্যতম জায়গা হলো উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা।
সেখানে রয়েছে ঢাকা খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সড়ক নারায়নহাট মিরশ্বরাই সংযোগ সড়ক, বর্তমানে যেখানে উপজেলা সদর দপ্তরের গেজেট হয়েছে সেখানে একটি রেজিষ্ট্রি অফিস ও কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক ছাড়া কিছুই নেই তাহলে কোন ক্রাইটেরিয়ায় সদর দপ্তরের গেজেট হলো কার জন্য হলো জনগনের জন্য হলো এই প্রশ্ন সরকারের নিকট। উত্তর ফটিকছড়িতে এত কিছু থাকার পরেও আমরা কেন আমাদের ন্যায্য অধিকারের জন্য আন্দোলন করব এই অঞ্চলের সরকারি রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে আরো গতিশীল করার জন্য সরকারের প্রয়োজনে জনগনের সুবিধার জন্য উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা গঠন করা প্রয়োজন।
আমরা আশা করব উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন উত্তরেই স্থাপন হবে সরকারের কাছে আমাদের এই আবেন করছি আমাদের আবেদন যৌক্তিক। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই।
সংবাদ সম্মেলনে সকলের একটিই কথা ছিল আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি আমরা চাই যৌক্তিক স্থানে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন হবে,যদি তা না হয় আমরা ভবিষ্যতে আরো কঠোর আন্দোলনে যাব আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা আমাদের দাবি আদায় করব।
উপস্থিত সকলে সরকারের নিকট জোর দাবি জাননা যে নামে উপজেলা ঘোষণা হয়েছে সে নামে সে অঞ্চলে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপন করে জনগনের সার্বিক উন্নয়নে সরকার অংশীদার হবেন।
জনমতকে প্রধান্য দিবেন।
নাগরিক সুবিধার জন্য সরকারের উন্নয়ন যাতে সু-সম বন্টন হয় সেটি বিবেচনা করে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা সদর দপ্তর উত্তরের যৌক্তিক স্থানে স্থাপন করবেন।
শজকত আকবর সরকারের নিকট একটি খোলা চিটি প্রেরন করেন সেটি তিনি উপস্থিত সাংবাদিকসম্মেলনে পড়ে শুনান।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠন ও সদর দপ্তর নির্ধারণে নির্বাহী বিভাগের চরম অদক্ষতা ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে খোলা চিঠি
তারিখ: ১১ জুলাই, ২০২৬
স্থান: ঢাকা প্রেস ক্লাব
আস-সালামু আলাইকুম ও শুভকামনা।
আজকের এই ঐতিহাসিক ঢাকা প্রেস ক্লাবে উপস্থিত গণমাধ্যমের সাহসী ও কলমযোদ্ধা ভাই ও বোনেরা, আপনাদের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক শ্রদ্ধা।
একটি অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চিত মানুষের অধিকার এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আজ আমরা আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আয়তন এবং জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উপজেলা ‘ফটিকছড়ি’-কে বিভক্ত করে একটি নতুন উপজেলা গঠন ছিল ফটিকছড়িবাসীর প্রাণের দাবি। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একক ও অনন্য কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর। রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের সুশাসন ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি যুগান্তকারী নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য—
রাজনৈতিক নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রশাসনের দেওয়া কারিগরি বুনিয়াদ বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। আর এই সুযোগেই মাঠ পর্যায়ের একশ্রেণীর অদক্ষ ও অসৎ আমলা এবং বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের দুই ধুরন্ধর ইউপি চেয়ারম্যানের গোপন সিন্ডিকেট ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠন ও এর সদর দপ্তর নির্ধারণের প্রতিটা পরতে পরতে অনিয়মের পাহাড় গড়ে তুলেছে। তথ্য গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিকার (NICAR) সভাকে বিভ্রান্ত করে তারা একটি ত্রুটিপূর্ণ গেজেট প্রকাশ করিয়েছে।
আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা আপনাদের সামনে নির্বাহী বিভাগের সেই চরম অদক্ষতা, অনৈতিকতা ও পদ্ধতিগত অনিয়মের দালিলিক ব্যবচ্ছেদ তুলে ধরছি:
১. নতুন ইউনিয়ন গঠন প্রক্রিয়া শেষ না করেই উপজেলা করার ‘অপেশাদার’ সিদ্ধান্ত
আমাদের হাতে থাকা সেপ্টেম্বর ২০২৩-এর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের স্মারকপত্র (০৫.৪২.১৫০০.৭০১.১১.০০২.২১) পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রস্তাবিত উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ৫টি ইউনিয়নকে (বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভুজপুর ও হারুয়ালছড়ি) বিভাজন করে মোট ০৯টি নতুন ইউনিয়ন গঠন করার কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রশাসনিক অবাস্তবতা (Non-pragmatic Decision): ৩টি বড় ইউনিয়নকে ভেঙে নতুন ইউনিয়ন গঠন করার আইনি ও সীমানা নির্ধারণী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই, তড়িঘড়ি করে পুরো এলাকার ওপর নতুন উপজেলা চাপিয়ে দেওয়া কোনো দূরদর্শী বা ‘Pragmatic’ সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এটি নির্বাহী বিভাগের চরম সমন্বয়হীনতা ও অপেশাদারিত্বের বড় প্রমাণ।
২. ৩ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ছাড়াই ভূয়া ‘সর্বসম্মত’ রেজুলেশন
প্রশাসন তাদের নথিতে দাবি করেছে যে, জানুয়ারি ২০২৫ সালের উপজেলা পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত ‘সর্বসম্মতভাবে’ গৃহীত হয়েছে। অথচ সত্য হলো—উক্ত সভায় বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাটের নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা উপস্থিতই ছিলেন না। ৩টি বিশাল ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সম্পূর্ণ অনুপস্থিত রেখে কীভাবে একটি রেজুলেশনকে “সর্বসম্মত” বলা হয়? জানুয়ারি ২০২৫-এর পর প্রশাসন যত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা এই তিন ইউনিয়নের জনগণের রিপ্রেজেন্টেশন ছাড়াই নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় সরকার আইনের চরম লঙ্ঘন।
৩. সুয়াবিলকে বাদ দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ গোপন করা আমাদের কাছে থাকা ০৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি (৪৬.০০.০০০০.০৪৬.২৬.০১৮.২০.৯২) অনুযায়ী—প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল সুয়াবিল ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে এবং প্রাক-নিকার বা সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ‘জুজখোলা’-কে সদর দপ্তর করে সংশোধিত মানচিত্র ও সারসংক্ষেপ পাঠাতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এই চিঠির কোনো জবাব দেয়নি এবং নিকার সভার চূড়ান্ত সারসংক্ষেপে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সত্যটি সম্পূর্ণ গোপন করা হয়েছে। আদালত ও সরকারের উচ্চ পর্যায়কে অন্ধকারে রেখে সুয়াবিলকে জোরপূর্বক অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট নোটিফিকেশন করা হয়েছে।
৪. প্রি-নিকারের সিদ্ধান্ত ও জুজখোলার অকাট্য প্রমাণ
নিকারে যাওয়ার আগেই প্রাক-নিকার বা সচিব কমিটির সভায় যথাযথ গণশুনানির ভিত্তিতে ‘জুজখোলা’ মৌজায় সদর দপ্তর করার অকাট্য সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ ছিল। নিকার এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণত একক সিদ্ধান্ত নেয় না, বরং কারিগরি কমিটির সুপারিশ মেনে চলে। কিন্তু মাঠ প্রশাসন নথিতে কারসাজি করে ‘পশ্চিম ভুজপুর’ এবং ‘জুজখোলা’র মধ্যে একটি নজিরবিহীন জটলা পাকিয়ে নিকার সভাকে ভুল তথ্য সরবরাহ করেছে।
আমাদের চূড়ান্ত বক্তব্য ও হুঁশিয়ারি:
এই সমস্ত অনিয়মের জন্য আমরা কোনো অবস্থাতেই রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দোষারোপ করছি না। এই দায় সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগের। একবিংশ শতাব্দীর এই ডিজিটাল ও জবাবদিহিতার যুগে এসে প্রশ্ন উঠতে পারে—জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই ধরনের অদক্ষ ও অনৈতিক নির্বাহী বিভাগ পরিচালনার আদৌ কোনো যৌক্তিকতা আছে কিনা?
নির্বাহী বিভাগের এই চরম অদক্ষতার কারণেই আজ দেশের সাধারণ জনগণকে বিচার বিভাগের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। এই গেজেটটি যখন উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে, তখন বিচার বিভাগের রায়ে নির্বাহী বিভাগের এই চরম অদক্ষতা ও জালিয়াতির বিষয়টিই প্রতিফলিত হবে এবং তা সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করবে।
আমরা আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের এই স্বেচ্ছাচারী ও ত্রুটিপূর্ণ গেজেট নোটিফিকেশন অবিলম্বে স্থগিত করে, পূর্বের সরকারি আদেশ মোতাবেক সুয়াবিলকে বাদ দিয়ে এবং বৈধ গণশুনানির ভিত্তিতে জুজখোলাকে সদর দপ্তর ঘোষণা করে এই নজিরবিহীন আইনি ও প্রশাসনিক ভুল শুধরে নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
ধন্যবাদান্তে,
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সর্বদলীয় নাগরিক কমিটি ও ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

