গৌতম কুমার মহন্ত – নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
নওগাঁর মহাদেবপুরে নিজ বাড়ির শয়ন ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৩ জুলাই সোমবার সকালে উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রাম থেকে লোকমান আলী মন্ডল (৫০) ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের (৪৫) লাশ থানা পুলিশ উদ্ধার করেন। ওই দম্পতির ছেলে পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন মুক্তার হোসেন জানায়,তার পিতা-মাতাসহ তিনি একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজ শয়ন ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, ভোর রাত সাড়ে ৩ টার দিকে ছেলে মুক্তার হোসেন প্রতিবেশীদের খবর দেয় যে তার পিতা-মাতা বিষ খেয়েছে এবং তারা দ্রুত তাদের বাড়ি গিয়ে দেখতে পান স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ খাটের ওপর পড়ে আছে। লোকমান আলী মন্ডল দিন মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং ছেলে মুক্তার হোসেন পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন। পিতা-মাতার সাথে তাদের ছেলে মুক্তার হোসেন একই বাড়িতে বসবাস করেন।
স্থানীয়দের দাবি, মুক্তার হোসেন মাদকদ্রব্য সেবনসহ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। স্থানীয়দের ধারণা টাকার জন্য বাবা-মাকে চাপ দিলে তারা টাকা দিতে অস্বীকার করায় খাবারের সাথে কীটনাশক মিশিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। প্রতিবেশীদের মতে প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে খাবারের সাথে কীটনাশক মিশিয়ে পিতা-মাতাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল তাদের ছেলে মুক্তার হোসেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে খাবারগুলো ফেলে দিলে ওই খাবার খেয়ে বাড়ির কিছু হাঁস মারা যায়।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ছেলে মুক্তার হোসেন বলেন,রাত সাড়ে ৩ টার দিকে টয়লেট সেরে যাওয়ার সময় ঘরের দরজা খোলা দেখে তিনি ভিতরে ঢুকে খাটের ওপর তার পিতা-মাতার লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের জানায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ জেলকদ হোসেন জানান, প্রাথমিক সুরতহাল রিপোটে কীটনাশক পানে অথবা খাবারে কীটনাশক প্রয়োগে তাদের মুৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ওমর ফারুক বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে,খাবারের মাধ্যমে বিষাক্ত কিছু শরীরে যাওয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

