মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল,কেন্দুয়া নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের কেন্দুয়া-নেত্রকোণা আঞ্চলিক মহাসড়কের সাথে দৃষ্টিনন্দন একটি চারতলা ভবন ও একটি বিশালাকৃতির হাফ বিল্ডিং এর অবকাঠামো নিয়ে নির্মিত নোয়াদিয়া একতা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঠদানের জন্য ১৩ জন শিক্ষক প্রয়োজন হলেও আছে চারজন এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক রয়েছে দুইজন। ইংরেজি, গণিত, ইসলাম ধর্ম, শরীরচর্চা, চারু-কারু, আইসিটি ও বিজ্ঞানের শিক্ষক সংকট রয়েছে। বর্তমানে ৬ষ্ট শ্রেণি হতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ১৫৮ জন হলেও উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৩ জন! এছাড়াও ২০২৫ ইং সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৩৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও পাস করেছে মাত্র ৯ জন যা শতকরা হিসেবে পাসের হার ২৫%।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের পাশের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এই বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান খুবই কম। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে কত সুন্দর বিল্ডিং তৈরি করে দিছে কিন্তু তেমন কোন ভাল লেখাপড়া হয় না। আমাদের বাড়ির পাশেই কিন্তু কোন সময় তালা খুলে কোন সময় বন্ধ করে, শিক্ষক, ছাত্র আসে না আসে কোন শব্দও পাইনা।
তারা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ এবং তদারকির অভাবেই এই করুণ অবস্থার জন্য দায়ী।
তবে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাদির দায় স্বীকার করতে নারাজ। তিনি বলেন, আরও উপস্থিতি ছিল হয়তোবা বিদ্যালয়ের কোন ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীরা আছে। হাজিরা খাতায় ও ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা গড়মিল থাকায় জিজ্ঞেস করলে প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদির বিভিন্ন তালবাহানা কথাবার্তা বলেন।
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, নোয়াদিয়া একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয় আগে থেকেই অবগত। প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিই বেশি, গাফিলতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবো।

