• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • নেত্রকোনার সীমান্ত আবারও উত্তাল সবকিছু ম্যানেজ করেই চলছে চোরাচালান 

     swadhinshomoy 
    24th Feb 2026 2:57 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা : নেত্রকোনার সীমান্ত এলাকাগুলোতে কিছুতেই থামছে না নিষিদ্ধ চোরাচালান। প্রতিদিন জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার এলাকাগুলোর অন্তত ২৫টি পয়েন্ট দিয়ে ডুকছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাদক, ভারতীয় গরুসহ পণ্য সামগ্রী। এতে বড় রকমের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আর চোরাচালানীর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন বিজিবি ও রাজস্ব সংশ্লিষ্ট এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জেলার কলমাকান্দা সীমান্তের পাঁচগাঁও, মোহনপুর, বিজিবির আওতাধীন সংশ্লিষ্ট এলাকা গুলো দিয়ে প্রতিদিনই পাচার হচ্ছে অসংখ্য মাদক। স্থানীয় প্রশাসনে চোখের সামনেই চলছে এই মাদকের রংগলীলা।

    ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাজারে ভারতীয় মসলাসহ অন্যান্য পণ্যের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাকারবারিরা। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩৬০ কেজি অবৈধ ভারতীয় জিরা জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তন্ময় আহমেদ (২০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার তন্ময় আহমেদ ভবানীপুর গ্রামের আব্দুর রাশিদের ছেলে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে ভবানীপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই ঘর থেকে ১২টি বস্তায় মজুত করে রাখা অবৈধ ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত জিরাগুলোর বস্তার গায়ে ‘’VP WORLD NO.1 JEERA’ লেখা রয়েছে, যা ছবিতেও স্পষ্ট। প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি করে মোট ৩৬০ কেজি জিরা জব্দ করা হয়। স্থানীয় সূত্র মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে দেশীয় পণ্যের তুলনায় কম দামের কারণে ভারতীয় কসমেটিকস, জিরাসহ বিভিন্ন মসলা ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়ে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি চক্র অবৈধভাবে সীমান্ত পথে এসব পণ্য দেশে আনছে। অবৈধভাবে আমদানি করা এসব পণ্য বাজারে প্রবেশ করায় দেশীয় ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

    এদিকে স্থানীয়ভাবে তেমন কোনো কর্মসংস্থান না থাকায় অনেকেই জড়িয়ে রয়েছেন এই চোরাচালান ব্যবসায়। এরমাঝে সবচেয়ে বেশি মাদক আমনদানী হয় ৩১ বিজিবির আওতায়ধীন সুনামগঞ্জের মহেষখোলা, টেকের ঘাট পয়েন্ট দিয়ে। একাধিক চোরাকারবারী জানান, স্থানীয় বিজিবি, জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলে চোরাচালানি। বিশেষ করে স্থানীয় আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভারতের সাথে আনাগোনা অনেক আগে থেকেই। মাতৃতান্ত্রিক জাতির নারীরা রোজ সকালেই বিভিন্ন রকম দেশীয় পণ্য নিয়ে চলে যান পাহাড়ের চূড়ায়। দিনভর পাহাড়ের পাদদেশ মেঘালয়ের বিভিন্ন স্থানে কেনাবেচা হয় ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী। বিকেলে ও রাতে বস্তায় ভর্তি জিরা, চিনি, বডি স্প্রে, মধু, শাড়ি লুঙ্গি, বাচ্চাদের নামি দামি পোশাক, ফেনসিডিল, বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ নিয়ে আসে এ দেশে। পরবর্তীতে সেগুলো স্থানীয় সিন্ডিকেট কিনে নিয়ে বিক্রি করছেন দেশের বিভিন্ন অভিজাত হোটেল ও মার্কেটে। চোরাচালানি কাজে সরাসরি সহায়তা করছে বিজিবি ও বিএসএফ কর্তৃক লাইনম্যানরা এমন তথ্য স্থানীয়দের কাছে অনেকটাই পুরনো। তবে লাইনম্যান ব্যতীত অন্য কোনো মাধ্যমে অবৈধ মালামাল নিয়ে প্রবেশ করলে বিজিবির কাছে ধরিয়ে দেয়া হয় বলেছেন চোরাচালানিতে জড়িত অনেকেই। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সিংহভাগ অবৈধ মালামাল পাচার হলেও ধরা পড়া কিছু চালান নিলাম করে জেলার রাজস্ব কর্মকর্তারা। সেখানে ও রয়েছে ব্যাপক ও অনিয়ম। মূলত মালামাল গুলো বৈধতা নিতেই ধরিয়ে দেয়া পণ্য নিলামে কিনে নেন সংশ্লিষ্ট চোরাচালানীরা। পরে অল্প কিছু মালামালের বৈধতা দেখিয়ে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকার পণ্য সামগ্রী।

    এদিকে সোমবার সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি) কর্তৃক প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এরআগে সোমবার ভোরে দুর্গাপুর উপজেলার ২নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের গাজিরকোনা এলাকা থেকে এসব মদ জব্দ করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ বিজিবি’র অধিনায়ক জানান, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ভরতপুর বিওপি’র (বর্ডার অবজারবেশন পোষ্ট) ছয় সদস্যের একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। টহল দলটি ওই বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত মেইন পিলার ১১৬৫/২-এস হতে আনুমানিক দুইশো গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গাজিরকোনা নামক স্থানে এ অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৮ বোতল ভারতীয় মদ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত ভারতীয় মদ নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    February 2026
    S M T W T F S
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728