মিজানুর রহমান মুবিন, ঝালকাঠী জেলা প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বরিশাল বিভাগজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। দলীয় হাইকমান্ডের আস্থা অর্জনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতা তুলে ধরছেন। মিডিয়া পাড়া থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই চলছে বিশ্লেষণ, আলোচনা ও চুলচেরা পর্যালোচনা।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে অনেকেই নিজ নিজ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু বৃহত্তর দলীয় স্বার্থে মনোনয়ন না পেলেও তাঁরা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আত্মত্যাগই সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ঈদের আগেই চূড়ান্ত হতে পারে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে।
আলোচনায় যাঁরা
বরিশালের সাবেক এমপি ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের দৃঢ়কণ্ঠ তৃণমূলের আস্থাভাজন এবং সাহসী নেত্রী এডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন সংরক্ষিত আসনে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে সম্ভাব্য তালিকায় এগিয়ে রেখেছে।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আলোচিত নাম অধ্যাপক ডা. জাহানারা লাইজু। তাঁর পিতা মোশাররফ হোসেন মংগু বরিশালের তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। ডা. লাইজু বিএনপির রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী হিসেবে পরিচিত। তিনি ড্যাবের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং আহত নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক ও শিল্পী হিসেবেও সুপরিচিত।
ঝালকাঠি-২ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জিবা আমিনা আল গাজী জিবা। মনোনয়ন না পেলেও তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। তাঁর পিতা ব্যারিস্টার আক্তার উদ্দিন আহমেদ তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তাঁকে সংরক্ষিত আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাতারে রেখেছে।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মমতাজ বেগম নয়নও আলোচনায় রয়েছেন। সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী দলীয় স্বার্থে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছেন।
পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এলিনা জামানও সম্ভাব্য তালিকায় আছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এই নেত্রী নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া এডভোকেট রহিমা আক্তার এবং নাসিমা বেগমের নামও আলোচনায় রয়েছে।
মূল্যায়নের প্রত্যাশা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ও তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা নারী নেত্রীদের যথাযথ মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবি। সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন কেবল রাজনৈতিক ভারসাম্য নয়, বরং ত্যাগ ও যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হওয়া উচিত।
এখন দেখার বিষয়—দলীয় হাইকমান্ড কাদের ওপর আস্থা রাখে এবং বরিশাল বিভাগের সংরক্ষিত নারী আসনে শেষ পর্যন্ত কারা মনোনয়ন পান।

