মোঃ শাহ জামাল শাওন
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ২০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে এই কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।
প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি উন্নতমানের আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার এবং ১০ কেজি ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এসব উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে আউশ ধানের ফলন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আকতার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী ও উৎপাদনমুখী করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে আসছে। এর ফলে কৃষকরা কম খরচে অধিক উৎপাদনে উৎসাহিত হচ্ছেন।
বিশেষ অতিথি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, “প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে এই উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করবেন, যাতে কৃষকরা সঠিকভাবে বীজ ও সার ব্যবহার করতে পারেন এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন পান।”
এসময় কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা কৃষকদের বীজ সংরক্ষণ, বপন পদ্ধতি ও সার প্রয়োগের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অনেক কৃষক জানান, বর্তমান সময়ে কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চাষাবাদ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। সরকারের এই সহায়তা তাদের জন্য বড় ধরনের প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে এবং আউশ ধানের আবাদে নতুন উদ্দীপনা যোগাবে।
স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়োপযোগী এ উদ্যোগ শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন বলে তারা মতামত দেন।

