• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • নববর্ষের সকালে শাল্লায় ধান কাটা উৎসবের শুভ সূচনা: বৈশাখের আমেজে সোনালি স্বপ্ন ঘরে তুলতে প্রস্তুত কৃষক 

     swadhinshomoy 
    15th Apr 2026 3:56 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    ​শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
    মোঃ দিলুয়ার হোসেন

    সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় এক অভূতপূর্ব আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বোরো ধান কাটা উৎসবের শুভ সূচনা হয়েছে। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখের আনন্দ আর কৃষকের সোনালি ফসল ঘরে তোলার কর্মব্যস্ততা মিলেমিশে উপজেলার হাওরগুলোতে আজ বইছে উৎসবের দ্বিগুণ জোয়ার।
    ​মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে উপজেলার ‘পুটিয়ার হাওরে’ কৃষক আজিজ মিয়ার জমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
    ​প্রশাসনের উপস্থিতি ও ধান কাটা উৎসব আগাম বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুততম সময়ে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তোলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ধান কাটা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।
    ​এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভ জিৎ রায়, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) উবায়দুল হক। এছাড়াও উপজেলা সমবায় অফিসার, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের সদস্যবৃন্দ, উপজেলার বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    ​নববর্ষের বর্ণিল আয়োজন ধান কাটা উৎসবের আগে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শাল্লা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। ঐতিহ্যবাহী আলপনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বৈশাখী সাজে তরুণ-তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো উপজেলা সদরে এক উৎসবের আমেজ তৈরি করে। বক্তারা বলেন, হাওরাঞ্চলে পহেলা বৈশাখ কেবল একটি পঞ্জিকার পরিবর্তন নয়, বরং এটি কৃষকের নতুন বছরের সমৃদ্ধি ও জীবন সংগ্রামের প্রতীক।

    ​কৃষকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা উদ্বোধনকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভ জিৎ রায় কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন:

    ​”হাওর অঞ্চল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় শিলাবৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা থাকে। তাই ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলেই তা ক্ষেতে ফেলে না রেখে দ্রুত কেটে ফেলার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা আশা করছি আগামী ১০ মে’র মধ্যে সমস্ত ধান নিরাপদে ঘরে তোলা সম্ভব হবে।”
    ​তিনি আরও জানান, শ্রমিকের সংকট মেটাতে উত্তরাঞ্চল থেকে শ্রমিক আনার ব্যবস্থার পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    ​ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস তাঁর বক্তব্যে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় হাওরের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক কারণে অতিবৃষ্টির ফলে কিছু কিছু জায়গায় ধান কাটতে গিয়ে কৃষক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। অনেক জমিতে কাদা ও পানি জমেছে।”
    ​এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধী সমাজ ও এলাকাবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন:
    ​”আমি অনুরোধ জানাব, আপনারা নিজ নিজ উদ্যোগে এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করুন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেন আমাদের প্রতিটি কৃষক তাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন সোনালি ফসল নিরাপদে গোলায় তুলতে পারেন। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করব।”
    ​আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার শাল্লায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রশাসনের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দিকনির্দেশনায় হাওরপাড়ের সাধারণ কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    April 2026
    S M T W T F S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    2627282930