এ আর সুমন, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও সার্বিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে দর্শনার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সঙ্গে শোভাযাত্রা, বর্ণাঢ্য র্যালি, লোকজ মেলা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংগীত পরিবেশন, ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনু মিয়া, কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল আউয়ালসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
তবে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় দর্শনার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অনেকেই দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে বাধ্য হন। এমনকি সাংবাদিকদের জন্যও কোনো নির্দিষ্ট আসনের ব্যবস্থা ছিল না, ফলে তাদের দাঁড়িয়ে থেকেই অনুষ্ঠান কাভার করতে হয়েছে। বিষয়টিকে অনেকেই সাংবাদিকদের প্রতি অবহেলা ও অসম্মানের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
এ পরিস্থিতিতে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয় এবং আয়োজকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষের জেরে এর আগে (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসেও অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণে অংশ নেয়নি। তারা আলাদাভাবে দিবসটি পালন করে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল বলেন, আমরা যে সম্মান পাওয়ার কথা, উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে তা পাইনি। তাই আমরা নিজেদের মতো করে দিবসটি উদযাপন করেছি।

