swadhinshomoy
19th Aug 2025 1:02 pm | অনলাইন সংস্করণ Print
নাজমুল কবীর,রাজৈর-মাদারীপুরঃ
মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রির নামে চলছে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি। সাধারণ মানুষ সেখানে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হলেও কর্তৃপক্ষ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
স্বেচ্ছা”চারিতার অপর নাম ‘রাজৈর সাব- রেজিস্ট্রি অফিস’।স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজৈর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখন যেন অনিয়ম,দুর্নীতির আঁকড়ায় পরিণত হয়েছে। নির্দিষ্ট ফি’র বাইরে দলিলদাতা ও গ্রহীতার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অফিসের দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব লেন-দেনকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে চালিয়ে নিচ্ছেন। তবে দলিল লেখকগণ লাইসেন্স হারনোর ভয়ে নিরবে সায় দিচ্ছেন সকল অপকর্মের।
দলিল রেজিস্ট্রির আগে দাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অনুযায়ী উত্তরাধিকার বা বংশের নামের বানান সামান্য অমিল থাকলেই আটকে যাচ্ছে দলিল। আর তখনই
সাব রেজিস্টার সাথে চুক্তি করতে হয় আর চুক্তি না হলে হয় না দলিল। অথচ আইনের দৃষ্টিতে এসব ত্রুটি দলিল রেজিস্ট্রিতে কোন বাধা হওয়ার কথা নয়।
তথাপি চুক্তির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করাই যেন এখন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এনআইডি এর সাথে জমির পর্চায় কোন রকম বানানের ভুল, বংশের ভুল ইত্যাদি পাওয়া যায় তাহলে দলিল লেখককে সাব রেজিস্টার আসার সাথে সাথেই চুক্তি করতে হবে তা না হলে দলিল রেজিষ্ট্রেশন হবে না। আর এই চুক্তি আবার দলিল লেখক একা গিয়ে করে আসেন।
বাংলায় লেখার নিয়ম মানা হচ্ছে না
আইন অনুযায়ী জমির পরিমাণ ও আর্থিক মূল্য অংকের পাশাপাশি বাংলায় লেখার বাধ্যতামূলক নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু রাজৈরের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এ নিয়মকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হচ্ছে। শুধু মাত্র অংক সংখ্যা ব্যবহার করে দলিল সম্পাদন করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নানা জটিলতার কারণ হতে পারে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশনের আগে চারটি ব্যাংক পে-অর্ডার দলিলের সঙ্গে দাখিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কিন্তু এখানে নিয়ম ভেঙে পে-অর্ডার যাচাই না করেই দলিল সম্পাদনের পরই পে-অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। এতে করে সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রশ্ন উঠেছে।
রাজৈর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতাদের কাছ থেকে নেওয়া বিভিন্ন খরচের রশিদ যাহা বিবিধ রশিদ বা টাকার প্রাপ্তি রশিদ হিসাবে পরিচিত সেই রশিদ আইন অনুযায়ী দলিল সম্পাদনের সময় দলিল দাতা বা গ্রহীতাকে সরকারি ফি ও অন্যান্য খরচের টাকার একটি বিস্তারিত টাকার প্রাপ্তি রশিদ দেওয়ার বিধান থাকলেও বাস্তবে তা কাউকেই দেওয়া হচ্ছে না।
এই কারণে দাতা ও দলিল গ্রহীতা জানতে পারে না ঠিক কত টাকা কোন খাতে খরচ হয়েছে, ফলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলেও তার কোন হিসাব থাকে না।এমন কি ৫২ ধারার রশিদ সংগ্রহ করা হলেও সেই রশিদ কখনো দাতা বা গ্রহীতার হাতে তুলে দেওয়া হয় না। তাহা দলিল লেখকদের সংগ্রহ করতে হয়।
সচেতন মহল মনে করে দাতা-গ্রহীতারা যদি প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব জানতেন, তবে অতিরিক্ত টাকা দাবি করার সুযোগ থাকত না। এই কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে রশিদ গোপন রাখা হচ্ছে বলে ধারণা করছে সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী গ্রহীতা দৈনিক স্বাধীন সময় প্রতিনিধিকে জানান,আইন অনুযায়ী, দলিল সম্পাদনের সময় স্ট্যাম্প ডিউটি, নিবন্ধন ফি, তথ্য প্রযুক্তি ফি, ও অন্যান্য বিবিধ খরচের রশিদ প্রদান বাধ্যতামূলক। এটি না দিলে তা পরিষ্কারভাবে সরকারি অনুশাসনের লঙ্ঘন।
তার আরো দাবি, দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে দাতা ও গ্রহীতাদের প্রতিটি খরচের পূর্ণাঙ্গ রশিদ বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করতে হবে এবং যারা এই নিয়ম মানছে না তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজৈর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাব-রেজিস্টার সাহেব নিয়মিত আসেন না। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস চালু থাকার কথা থাকলেও, অফিসের সাব-রেজিস্টার সাহেব নিয়মিত অফিসে আসছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে এবং এটা সত্য । সেবা প্রত্যাশীরা বলছেন, তিনি সপ্তাহে মাত্র তিন দিন অফিসে উপস্থিত থাকেন, তাও আবার নির্ধারিত সময়ের পর।
সচেতন মহলের ধারণা সপ্তাহে পাঁচ দিনের পরিবর্তে তিন দিন আশা এবং তাও অল্প সময়ের জন্য আশা এটা তার দুর্নীতি, অনিয়ম করার হাতিয়ার। অল্প সময়ের জন্য অফিস করলে সেবা প্রত্যাশীরা তাড়াহুড়ায় থাকে সেই সুযোগে সাব-রেজিস্টার সাহেব কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারিতা একটি সরকারি অফিসে এমন অনিয়ম চলতে থাকলে, সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। প্রশ্ন উঠেছে—এই অনিয়ম বন্ধে জেলা রেজিস্ট্রার, দুর্নীতি দমন কমিশন বা প্রশাসন কী কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না?
এ বিষয়ে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক
জনগণ আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংক্ষেপে বলছি রাজৈর সাব-রেজিস্টারি অফিসে যা যা করেন –
এনআইডি বা পরিচয়ে সামান্য ভুল দেখিয়ে টাকা আদায়ের ফাঁদ!
পে-অর্ডার যাচাই না করেই দলিল রেজিস্ট্রি!
সংক্ষেপে বলা যায় রাজৈর সাব-রেজিস্টারি অফিসে যা যা করেন –
এনআইডি বা পরিচয়ে সামান্য ভুল দেখিয়ে টাকা আদায়ের ফাঁদ।
পে-অর্ডার যাচাই না করেই দলিল রেজিস্ট্রি!
বাংলা লেখার নিয়ম না মেনে তৈরি হচ্ছে ভুলে ভরা দলিল।
দলিলের রশিদ গোপন রাখা হয় ইচ্ছাকৃতভাবে — যাতে কেউ হিসাব না জানে।
সপ্তাহে ৫ দিন অফিস থাকার নিয়ম থাকলেও, সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব আসেন মাত্র ৩ দিন — তাও নির্ধারিত সময়ের বাইরে!
উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের
+88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।

