শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের শাল্লায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা এবং অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার গোপন ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দুই সক্রিয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিদের গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সুনামগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (শাল্লা জোন) প্রেরণ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, গত বুধবার (১৩ মে) দিনগত রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে শাল্লা থানার পুলিশ শ্রীহাইল গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিজ বসতবাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— শাল্লা উপজেলার ৪ নং শাল্লা ইউনিয়নের শ্রীহাইল গ্রামের মৃত একলাছ মিয়ার ছেলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সক্রিয় সদস্য চান মিয়া (৪৮), সঞ্জব আলীর ছেলে ও ইউনিয়ন কৃষক লীগের সক্রিয় সদস্য আফজল মিয়া (৫০)।
অন্য দিকে একই গ্রামের বাসিন্দা ও শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জিয়াকে মারামারির মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৭০-৮০ জন নেতাকর্মী বাহাড়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের স্বর্ণা রেস্টহাউজের পেছনে সাবেক এক যুবলীগ নেতার কার্যালয়ে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে আসামিরা দিক-বিদিক পালিয়ে যান। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত ও প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তিতে এই দুই আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাল্লা থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. ইমাম আরেফিন আদালতে প্রেরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন:
”আসামিরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পতনের লক্ষ্যে শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা (কেপিআই), রাস্তা-ঘাট ও কালভার্টের ক্ষতিসাধন এবং ভাঙচুর করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে গোপনে ওই বৈঠক ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করছিলেন।”
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আফজল ও চান মিয়া এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ, বাড়িঘর লুটপাট ও ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। শুধু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই নয়, তারা এলাকায় জুয়া ও তাসের সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। তাদের মরণকামড় ও সন্ত্রাসী আচরণের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খোলার সাহস পেত না। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও তদন্তে সরকারের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতমূলক ষড়যন্ত্রের সাথে আসামিদের জড়িত থাকার পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং আসামিরা জামিন পেলে হাওড়বেষ্টিত দুর্গম এলাকা থেকে চিরতরে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা থাকায় বিজ্ঞ আদালতের কাছে তাদের জেলহাজতে আটকে রাখার আবেদন জানানো হয়। আদালত তাদের আবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

