আব্দুল মজিদ,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁও শহরের প্রধান রাস্তাগুলোতে ইজিবাইক বা চার্জার রিকশার যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে দিন দিন যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এই ছোট ছোট যানবাহনগুলো একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে তেমনি অপরিকল্পিত পার্কিংয়ের কারণে জনসাধারণের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তা, কালীবাড়ি বাজার, বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে প্রায়ই দেখা যায় ইজিবাইকগুলো রাস্তা আটকে রেখেছে, যার ফলে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
এই সমস্যা শুধু যানজটেই সীমাবদ্ধ নয়। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের মতো যানবাহনগুলোকেও প্রায়ই দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে। এতে করে চিকিৎসা বা অগ্নি নির্বাপণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস টাইমে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য এই সমস্যা সমাধানে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে এবং চালকদের সচেতনতা বাড়াতেও চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়। ইজিবাইক চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত, ইজিবাইকগুলোর জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরি করা, যাতে তারা যত্রতত্র পার্কিং না করে। একই সাথে, চালকদেরও বুঝতে হবে যে তাদের সামান্য অসচেতনতা পুরো শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে।এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সচিব মজিবর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান আমাদের পৌরসভায় দশ হাজার নিবন্ধন রয়েছে কিন্তুু বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে উপজেলা থেকে আরো প্রায়ই দ্বীগুন সংখ্যা প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে শহরে আসে ছোট্ট শহরে এতো অসংখ্য ইজিবাইক এবং অটোরিকশার ভাড়ে বিপর্যস্ত ট্রাফিক ব্যবস্হা। এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক সরদার মোস্তফা শাহীন এর সাথে কথা হলে তিনি জানান এটি নিরসনে আগামী মাসের ২০ তারিখে এ বিষয়ে একটি মিটিং এর আহবান করা হয়েছে। এ বিষয়ে শহর চৌরাস্তায় ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে কর্মরত দের কথা বলতে গেলে তারা জানান আমাদের এ বিষয়ে কথা বলা নিষেধ অনুমতি নিয়ে কথা বলতে হবে।
এই সমস্যা সমাধানে নাগরিক সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষকেও এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিয়ম মেনে চলতে হবে। ইজিবাইকের মতো পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা যদি পরিকল্পিত উপায়ে ব্যবহার করা যায়, তাহলে এটি শহরের উন্নয়নে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

