এস এম গোলাম মোস্তফা :
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ তহবিলের টাকা দ্রুত প্রদানের নিমিত্তে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি চিন্তা ভাবনা করে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।
সম্ভবত আজ পর্যন্ত কোনদিন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ তহবিলের টাকা পেতে কোন আন্দোলন হয়নি। যার কারনে সরকারের নিকট এ ব্যাপারে দাবি নিয়ে কোন শিক্ষক নেতা বসেননি।
ভেবে দেখুন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক কত অসহায়! শিক্ষকতা জীবন যেদিন শেষ তারপর কোন পেনশন নেই। সাড়া জীবনের বেতন থেকে ১০% কর্তনকৃত টাকা কতদিনে পাবে তার কোন সুনির্দিষ্ট আইন নেই তারিখ নেই। এতে করে অনেক শিক্ষক বেঁচে থাকতে অবসর কল্যাণের টাকা উত্তোলন করতে পারে না!
বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক চাকুরি শেষে শূন্য হাতে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়। এমনকি সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। আয় নেই অথচ খরচ করতে হয়। টাকা কোথায় পারে? একজন শিক্ষক চোররাটপারি করতে পারে না, বাদাম-বুট বিক্রয় করতে পারে না, রিক্সা- ভ্যান চালাতে পারে না, দিনমজুর খাটতে পারে না, টাকার অভাবে ভালো কোন ব্যবসা করতে পারে না। তাহলে কি করবে? মৃত্যুবরণ করতে হবে?
এখন আসেন কি করা যায়? যাতে দ্রুত অবসর ও কল্যাণের টাকা পরিশোধ করতে গেলে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করা যায়।
০১. অঞ্চলভিত্তিক শিক্ষা অফিস থেকে অবসর ও কল্যাণ তহবিল প্রদানের কাজ করতে হবে। যে রকম নতুন এমপিও ‘র কাজ হয়। অঞ্চলভিত্তিক কাজ হলে দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে।
০২. সাড়া বাংলাদেশের কাজ ব্যাইনবেইজ, নীলক্ষেত, ঢাকায় হয় বিধায় বিলম্বে অবসর ও কল্যাণ তহবিলের টাকা বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী পায়।
০৩. আবেদন করার ৬ মাসের মধ্যে টাকা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।
০৪. যাঁরা এ দায়িত্ব পালণ করেন তাঁদেরকে মানবিক বিবেচনা থাকতে হবে।
০৫. চাকুরী শেষ হওয়ার সাথে সাথে যেভাবে এমপিও লিষ্ট থেকে নাম বাদ যায়, ঠিক ঐভাবেই চাকুরী শেষ হওয়ার সাথে সাথে এমপিও’র মাধ্যমেই কিছু টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হলে অবসর জীবনে পথ চলা সহজ হতো বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের।
০৬. বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ তহবিলের টাকা ৬ মাসের মধ্যেই যে প্রক্রিয়ায় দেয়া যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ ছাড়াও যদি কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ তহবিলের টাকা দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থা করা যায়, সেদিকে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করে অবহেলিত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করা প্রয়োজন মনে করি।
বেঁচে থাকতে গেলে টাকার প্রয়োজন। নিজের বেতন থেকে কর্তনকৃত টাকা সরকারের ঘরে জমা থাকলেও বিভিন্ন টালবাহানা করে চলছে ব্যানবেইচ, নীলক্ষেত, ঢাকা অফিস। বর্তমান সময়ের শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয় বিষয়টি বিবেচনা করে একটি নির্ভরযোগ্য আইন প্রনয়ণ করে অবহেলিত বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের পাশে দাঁড়ানোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। হাইকোর্টের আদেশে অবসরের ৬ মাসের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ তহবিলের টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও কেন তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না সেটা দায়িত্ব প্রাপ্ত উপদেষ্টার মাধ্যমে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।

