প্রতিবেদক: মো. রেজাউল হক রহমত, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মেঘনা নদী থেকে ছিনতাই হওয়া প্রায় ৯২ লাখ টাকার ডিএপি সার উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে সার বহনকারী বাল্কহেডও। তবে এখনো পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয় এমভি হাসান নামের একটি বাল্কহেড। এতে ৬ হাজার ৩৪০ বস্তা ডিএপি সার বোঝাই ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। সার ডিলারের একজন প্রতিনিধি ও কয়েকজন শ্রমিকও ছিলেন বাল্কহেডটিতে।
বুধবার সন্ধ্যায় বাল্কহেডটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মানিকনগর ঘাটে নোঙর করে। ইঞ্জিন সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে বৃহস্পতিবার সারাদিন ঘাটেই অবস্থান করে। শুক্রবার ভোরে যাত্রা শুরুর ঘণ্টাখানেক পর এক ট্রলার থেকে দুই দুর্বৃত্ত উঠে ডিলারের প্রতিনিধিকে বেঁধে ট্রলারে উঠিয়ে দেয়। এরপর বাল্কহেডটি ছিনিয়ে নিয়ে তারা অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়।
প্রতিনিধিকে নিয়ে ট্রলারটি নদীতে ঘুরে বেড়ায় এবং বিকেল চারটার দিকে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আব্দুল্লাহর চর এলাকায় পৌঁছে তাকে মারধর করে ফেলে রেখে যায়। এরপর থেকে বাল্কহেডের অন্যান্য কর্মীদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার পরপরই নৌ পুলিশের একাধিক দল প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও বাজার–সংলগ্ন দেওজুড়ী খালে সারবোঝাই বাল্কহেডটি শনাক্ত করে। সেখানে অভিযান চালিয়ে বাল্কহেডসহ সারের বড় একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
তবে ছিনতাইকারীরা এর মধ্যেই কিছু সার নদীপাড়ের গ্রামগুলোতে নামিয়ে ফেলেছিল। স্থানীয় বাজার এবং আশপাশের এলাকা থেকে আনুমানিক ৮০০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
নরসিংদীর মির্জাচর নৌ পুলিশের পরিদর্শক মো. আবদুর রউফ জানান, ‘আমরা এখনো অভিযানে আছি। নবীনগরের কাউতলা এলাকা থেকে সার ও বাল্কহেড আটক করা হয়েছে। অভিযান এখনো চলছে।’
নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘নৌ পুলিশের তৎপরতায় এবং দিনব্যাপী টানা অভিযানে ছিনতাই হওয়া প্রায় সব সার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’উদ্ধারকৃত সার: ৬,৩০০ বস্তা (ডিএপি)বাজারমূল্য: প্রায় ৯২ লাখ টাকাবাল্কহেড: এমভি হাসানঅবস্থান: নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ামামলা: রায়পুরা থানায়গ্রেপ্তার: এখনো হয়নি।

