শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার দোহার উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র জয়পাড়া পুরোনো ব্রীজ এলাকায় বেড়েছে ভিক্ষুক ও অসহায় মানুষের অস্বাভাবিক আনাগোনা। বিশেষ করে শুক্রবার ও ছুটির দিনগুলোতে ব্রীজের দুই পাশে শত শত মানুষের সারিবদ্ধ অবস্থান এখন নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জয়পাড়া পুরোনো ব্রীজের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন নারী, পুরুষ, শিশু এমনকি শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও। পথচারী ও বিত্তবানদের কাছ থেকে সামান্য সাহায্যের আশায় তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা তপ্ত রোদে পুড়ে অপেক্ষা করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এদের মধ্যে বড় একটি অংশ আসে পার্শ্ববর্তী এলাকা ও বিভিন্ন দূরদূরান্ত থেকে, যাদের স্থানীয়রা ‘অতিথি ভিক্ষুক’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
জয়পাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় এখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত। স্থানীয়রা জানান, রমজান মাসে বিত্তবানরা এই ব্রীজ দিয়ে যাতায়াতের সময় দান-খয়রাত করে থাকেন। এই সাহায্য পাওয়ার আশায় প্রতিবছরই রমজানে ভিক্ষুকদের এই দীর্ঘ ‘লাইন’ বা সারি তৈরি হয়। অনেক সময় এই জটলার কারণে ব্রীজে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে মারাত্নক বিঘ্ন ঘটে।
ব্রীজের ওপর এভাবে সারি বেঁধে বসে থাকার ফলে সরু এই রাস্তায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান:
“একদিকে এটি অসহায় মানুষের আয়ের পথ হলেও অন্যদিকে এর ফলে ব্রীজের ওপর অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়। মাঝে মাঝে এই ভিড় থেকে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, যা ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারী উভয়ের জন্যই বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
ব্রীজে বসা কয়েকজন ভিক্ষুকের সাথে কথা বলে জানা যায় এক করুণ চিত্র। তারা জানান, বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন তাদের জন্য দায় হয়ে পড়েছে। তাই পেটের তাগিদে এবং একটু বাড়তি সাহায্যের আশায় রোজা রেখেও তারা এখানে ভিড় করেন। বিত্তবানদের কাছে তাদের আকুতি, এই পবিত্র মাসে যেন তাদের দিকে একটু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এলাকার সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি এই অসহায় মানুষদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা সুশৃঙ্খলভাবে সাহায্য বিতরণের ব্যবস্থা করা যেতো, তবে পথচারীদের ভোগান্তি কমতো। এতে অভাবী মানুষগুলোও লোকলজ্জার ভয় কাটিয়ে সম্মানের সাথে সাহায্য পেতে পারতো।

