সেলিম রেজা, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি।।
বিরলে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ- ২০২৬ উপলক্ষ্যে যুব ও নারী কৃষকদের নেতৃত্বে স্থানীয় ও মৌসুমি উপকরণ ব্যবহার করে পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুত, স্বাস্থ্যসম্মত রান্না পদ্ধতি এবং খাদ্য সংরক্ষণ বিষয়ে ব্যবহারিক প্রদর্শনী পরিচালনা করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুত, স্বাস্থ্যসম্মত রান্না পদ্ধতি এবং খাদ্য সংরক্ষণ বিষয়ে ব্যবহারিক প্রদর্শনী করা হয়।
বুধবার উপজেলার ০৩ নং ধামইর ইউনিয়নের গিরিধরপুর গ্রামে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ (২৩-২৯ এপ্রিল-২০২৬) উপলক্ষ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে যুব ও নারী কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিমরান মোহাম্মদ সায়েক, রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রকল্প কর্মকর্তা রাশেদুল আলম, উপজেলা কৃষি অফিসার রুম্মান আকতার, বাংলাদেশ পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (BIRTAN) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ ছাদেকুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পার্থ জি¦ময় সরকার, গেইন এর প্রোজেক্ট অ্যাসিস্টেন্ট সামিহা ইসরাত সিলভিয়া, নিরাপদ খাদ্য পরির্দশক সুমঙ্গল রায়, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শাহজাহান আলী, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফজালুর রহমান, এএইচএম গোলাম কবীর, মতিউর রহমান এবং গেইন এর প্রতিনিধিবৃন্দ।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে Diversified Resilient Agriculture for Improved Food and Nutrition Security (RAINS) প্রকল্পের আওতায় Global Alliance for Improved Nutrition (GAIN) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ।
এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (BIRTAN) এর সহযোগিতায় স্থানীয় ও মৌসুমি উপকরণ ব্যবহার করে পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুত, স্বাস্থ্যসম্মত রান্না পদ্ধতি এবং খাদ্য সংরক্ষণ বিষয়ে ব্যবহারিক প্রদর্শনীতে স্থানীয় যুব ও নারী কৃষকেরা সরাসরি এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
RAINS প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে অর্থায়ন সহায়তা প্রদান করছে GAFSP এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে IFAD। প্রকল্পের নেতৃত্ব দেয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) এবং অংশীদার হিসেবে সম্পৃক্ত রয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর (DAM), FAO TA এবং GAIN।
জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সুষম খাদ্যাভ্যাস, খাদ্য বৈচিত্র এবং উন্নত খাদ্য ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় বিশেষত নারী, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য। কমিউনিটি পর্যায়ে বিদ্যমান অপুষ্টি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুষ্টি বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অংশগ্রহণমূলক ও কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুষ্টি সংবেদনশীল কৃষি বিস্তারে টেকসই পরিবর্তন সম্ভব। জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ -২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই কার্যক্রমগুলো স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

