নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরে ঘর থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে অমানবিক নির্যাতনে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার গতকাল মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লেন বাবু। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন)।
নিহত সেলিম বাবু ঘাতকদের নির্যাতনে আহত পর থেকেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন।
প্রসঙ্গত গত ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার মধ্যম নাপিতখালী এলাকায় সোলাইমান ড্রাইভারের ছেলে সেলিম বাবুকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাছ চুরির অভিযোগে নাটক সাজিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৯ এপ্রিল কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল বিকাল ৩.৪৫ মিনিটের দিকে মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—স্থানীয় মেম্বার নূর মোহাম্মদ (৫৮), তার ছেলে আতা উল্লাহ (২৮), ইসহাক মিয়ার ছেলে মোবারক (৩০) ও রমিজ (৩২), শামসুল আলমের ছেলে মনজুর আলম (৩৫), মাহমুদুল হকের ছেলে আবু নোমান (আজুমান) (২৭) এবং আবদুস সালামের ছেলে কালা বেলাল (৩২)।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এবিষয়ে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছি। আসামিরা যেকোন সময় গ্রেফতার হতে পারেন।

