মোঃ ইকবাল মোরশেদ ::- স্টাফ রিপোর্টার।
নোয়াখালীর বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী হত্যা মামলায় তার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনি (৩০)-কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. সেলিম শাহী।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আব্দুর রহিম রনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি মামলার একমাত্র আসামি।
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ওইদিন তা পিছিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
ঘটনার বিবরণ-
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার একটি বাসা থেকে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার দিন সকালে ছাত্রীটি স্কুলে যায় এবং দুপুরে প্রাইভেট শেষে বাসায় ফিরে একা অবস্থান করছিল। সন্ধ্যায় তার মা বাসায় ফিরে দরজায় তালা দেখতে পান। পরে তালা খুলে ভেতরে ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো দেখতে পান এবং অন্য কক্ষে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত ও স্বীকারোক্তি-
ঘটনার পর পুলিশ একাধিক অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহিম রনিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে অন্যদের অব্যাহতি দিয়ে রনিকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং ব্যর্থ হয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে হত্যা করেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।
বিচার কার্যক্রম
মামলাটির বিচার চলাকালে বাদীপক্ষের ৪১ জন সাক্ষী এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিচার দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
সবশেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আব্দুর রহিম রনিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

