সাংবাদিক মোঃ জাহিদ হোসেন
দৈনিক স্বাধীন সময়
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, এক দফা ঘোষণার প্রামাণ্য চিত্র, জুলাই যোদ্ধাদের নথিপত্র এবং আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহীদ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবি ও ভিডিও যথাযথভাবে সংরক্ষিত আছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করে এসব তথ্য-প্রমাণের ঘাটতি নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক মোঃ জাহিদ হোসেন।
জাদুঘর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্যচিত্র সেখানে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে এক দফা ঘোষণার কোনো প্রামাণ্য চিত্র তাঁর নজরে আসেনি। পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধাদের পরিচয় ও আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্রমাণপত্র সংরক্ষণের বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, আন্দোলনের ইতিহাস শুধু স্মৃতিচারণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, দলিল, ছবি, ভিডিও এবং প্রত্যক্ষ প্রমাণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা জরুরি। এসব তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষিত না হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ফেলানী হত্যাকাণ্ডের কোনো স্থিরচিত্র বা ভিডিও খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি তাঁকে বিশেষভাবে হতাশ করেছে। একইভাবে জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদীর পর্যাপ্ত ছবি বা প্রামাণ্য চিত্র না থাকায়ও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “এজন্যই কি জুলাই আন্দোলন হয়েছিল? আজ যারা ক্ষমতার মসনদে বসে আছেন, তাঁরা কি দেশদ্রোহী স্বৈরাচার হাসিনার মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষমতায় বসেছেন? যদি তা না হয়, তাহলে কেন এত লুকোচুরি খেলা?”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দান-দয়ায় অর্জিত নয়। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে দেশের ইতিহাস নির্মিত হয়েছে। তাই সেই ইতিহাসের দলিল-প্রমাণ সংরক্ষণে কোনো ধরনের অবহেলা, গোপনীয়তা বা অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়।
জাহিদ হোসেনের মতে, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহীদ, আহত, আন্দোলনকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য আর্কাইভ তৈরি করা দরকার। সেখানে ছবি, ভিডিও, পোস্টার, লিফলেট, সংবাদ প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার, আন্দোলনকারীদের পরিচয় এবং সরকারি-বেসরকারি নথি সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, “শহীদ আবরারের ছবিটি আমার মনে গভীর দাগ কেটেছে। শহীদদের স্মৃতি এবং তাঁদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে জাদুঘরের সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ, তথ্যনির্ভর ও প্রামাণ্য করার আহ্বান জানান তিনি।

