মজিদ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ওসমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার নিজ গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে মোহাম্মদ ওসমান বেশিরভাগ সময় আটোয়ারীতে তার নিজ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হলেও তার পরিবার এবং স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ওসমানের বাবা আটোয়ারী উপজেলা এনসিপির (ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি) আহ্বায়ক।
তিনি সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছিলেন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এনসিপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এনসিপির রাজনীতিতে বাবার সক্রিয় ভূমিকা এবং স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মীদের সাথে ওসমানের সুসম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
ওসমানের পরিবারের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বাবার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ক্ষমতাসীন দলের একাংশ তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। বাবার এনসিপি পরিচয়ের বলি হতে হয়েছে ওসমানকে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
ইতোমধ্যে ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমের শরণাপন্ন হয়েছেন ওসমানের বাবা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওসমানের বিরুদ্ধে পূর্বে ঠাকুরগাঁও জেলাতেও রাজনৈতিক মামলা ছিল। তবে তাকে সম্প্রতি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়, যেখানে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একদিকে তার অতীত ছাত্রলীগ পরিচয়, অন্যদিকে পরিবারের বর্তমান এনসিপি সংযোগ—সব মিলিয়ে ওসমানের গ্রেফতারের পেছনে আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রতিহিংসাই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

