রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলা সদরের একমাত্র মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নানা অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িত, আছে নিয়োগ জটিলতা, অবৈধদের কারণে বৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক হয়েছেন বঞ্চিত।
আছে প্রশ্নপত্র ফাসের ঘটনা।
জানা যায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব পাওয়ার পরই রাধা রানী কুন্ডু পদাধিকার বলে সকল কমিটির সদস্য সচিব, তেমনি নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিবও বটে। তিনি নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে নিয়োগ কমিটির সাথে জালিয়াতি করে প্রধান শিক্ষক পদে আবেনকারী শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র পাঠান যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও জালিয়াতি। শোনা যায় তিনি কয়েক জন আবেদনকারী শিক্ষককে প্রশ্নপত্র পাঠান এবং মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন বলে শোনা যায়। কিন্তু তার পাঠানো প্রশ্নপত্র সঠিক ছিল না বলে এক আবেদনকারী জানান।
গত ২৮/২/২৪ তারিখে ম্যানেজিং কমিটি রেজুলেশন করে শুন্যপদের বিপরীতে এনটিআরসিএ নিয়োগ চাহিদা পাঠান। এনটিআরসিএ চাহিদা মোতাবেক তিনজন শিক্ষক রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠালে নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাধা রানী কুন্ডু কর্তৃক
ঐ তিন শিক্ষক নিয়োগ প্রাপ্ত হন এবং তাদের যোগদানপত্র গ্রহণ করেন।
২০১৪/২০১৫ সালে খন্ডকালীন ২ জন শিক্ষক শাখায় নিয়োগ পান এবং খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে বেতন বহি ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন গ্রহণ করতেন কিন্তু বাকী বহিরাগত কোন শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতেন না এমনকি বিদ্যালয়ে আসতেন না এবং তাদের নাম ও ছিল না।
২০১৪ সাল হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত হাজিরা না থাকলেও প্যাটার্ন বহির্ভুত অবৈধ শাখার ২ জন খণ্ডকালীন ও কয়েক জন বাহিরাগত এবং ১ জন অফিস সহকারী এমপিও হয়। ২০১৯ সালে বেতন বিল হলে তারা নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা শুরু করেন। যদি ও এর আগে তাদের হাজিরা খাতা ও স্বাক্ষর নেই। খণ্ড কালীন শিক্ষক নীতিস মন্ডল ও শ্যামল মন্ডলের বিল হওয়ার পর হয়ে গেলেন নিয়মিত শিক্ষক। শুধু তাই নয় ২০১৯ সালে প্যাটার্ন বহির্ভূত ১জন অফিস সহকারী হিসেবে সুশান্ত মধু এমপিও হন যেখানে অফিস সহকারীর পদ ১টি অথচ আছে ২ জন।
২০২৫ সালে ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন ক্রমে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নতুন শাখা খোলার জন্য আবেদন করেন। আবেদনকৃত নতুন শাখার বিপরীতে নতুন শিক্ষক থাকার কথা,কিন্তু নতুন কোন শিক্ষক না থাকার পরেও শাখা খোলার জন্য আবেদন করেন। এই অনুৃমোদনকৃত শাখার বিপরীতে ২০১৪/২০১৫ সালে অবৈধ শাখার বিপরীতে নিয়োগ পাওয়া ২০১৯ সালে এমপিও পাওয়া ২০২৫ সালের আবেদনকৃত নতুন শাখার বিপরীতে পুরোনো শাখার ৪জন শিক্ষককে আবারও নিয়োগ দেখানো হয়। রাধা রানী কুন্ডু তার নিয়মিত কাজ ছাড়া নিয়োগ সংক্রান্ত কোন কাজ করতে পারবেন না, যা পরিপত্র বিরোধী অথচ তিনি অতিরিক্ত শাখা খোলার বিষয়ে ও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যে সিদ্ধান্তের কারনে পূর্বের নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের শাখা শিক্ষক হিসেবে দেখিয়েছেন। কোন স্বার্থে বা কার স্বার্থে বিষয়টি শুশিল সমাজ তথা সচেতনদের ভাবিয়ে তোলে।
মুল প্যাটার্নে তিনটি পদ শুন্য হলেও পদ পূরণ করা যাচ্ছে না কারণ অবৈধ ভাবে নিয়ম না মেনে শাখা শিক্ষক এমপিও হওয়া।
মূল প্যাটার্নে ৩টি শুন্য পদের জন্য সংশোধনী দেয়ার জন্য বলা হলেও তিনি সংশোধনী দেননি এ বিষয়
ঐ শিক্ষক দের সাথে কথা হলে জানান ডিজি অফিস এবং আমরা সংশোধনী দেয়ার জন্য অনুরোধ করি কিন্তু রাধা রানী কুন্ডু কোন সংশোধন দেননি। সংশোধন না করে একই কাগজপত্র বারবার ডিজি অফিসে পাঠান।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, মাদারীপুর ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমান কারাবন্দী আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহান খান যখন রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকা অবস্থায় প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয় এবং গত ৩১/৫/২০২৪ তারিখের নিয়োগ পরিক্ষা যথারীতি লিখিত মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম স্থান অধিকারী নুরহোসেন হাওলাদারকে সভাপতি শাজাহান খান তার নিয়োগ চুড়ান্ত করেন এবং ৩০/৬/২০ ২৪ ইং তারিখে নিয়োগপত্র পাঠানো হয়। কিন্তু নুরহোসেন হাওলাদার যোগদানের শেষ দিনে ২০/৭/২৪ ইং তারিখে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি যোগদান করবেন না মর্মে সময় চেয়েও লিখিতভাবে আবেদন করে জানান। তাহলে বিগত সরকারের এমপি বা রাজনৈতিক নেতা কিভাবে তার নিয়োগে বাধা প্রদান করলো। সত্যি কথা হলো এই যে নুরহোসেন হাওলাদার স্বেচ্ছায় যোগদান করেননি। নুরহোসেন হাওলাদারের নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করায় ১৪/৭/২০২৪ নিয়োগ সুপারিশ কমিটি দ্বিতীয় স্থান অধিকারী অনল চন্দ্র রায়কে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী অনল চন্দ্র রায়কে ম্যানেজিং কমিটি নিতে নারাজ হওয়ায় ২৭/৮/২০২৪ ইং তারিখে সভায় নিয়োগ কমিটি উক্ত সুপারিশ স্থগিত করে দেন। এই স্থগিতাদেশ হওয়ার কারনে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ব্যক্তি অনল চন্দ্র রায় তাকে কেন নিয়োগদান করা হবে না এই মর্মে তিনি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলে প্রথম স্থান অধিকারী নুরহোসেন হাওলাদার যোগদান করবেন না বলে ঐ সময়ে লিখিত ভাবে জানালেও উক্ত আবেদন প্রত্যাহার করে নেন এখন তিনি যোগদান করবেন বলে আদালতে
মামলা করেন। উভয়ের মামলা মহামান্য হাইকোর্ট চলমান আছে। সুশীল সমাজ তথা শিক্ষা অনুরাগী ও সচেতন মহল এর সঠিক সমাধান চান।

