ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও সালান্দর ইউনিয়নের শিংপাড়া তালিমুল কুরআন মাদ্রাসায় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্বরোচিত হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রধান শিক্ষকসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের (স্বজনদের) প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামলায় জড়িত চিহ্নিত সাদ্দাম ও ইউসুফের নেতৃত্বে প্রায় ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র ও বহিরাগত সন্ত্রাসী আমার পবিত্র কর্মস্থল সিংপাড়া তালিমুল কুরআন মাদ্রাসায় অনাদিকার প্রবেশ করে সেই সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
আজ শনিবার ১৬.৫ ২০২৬ ইং সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের টাটকা নামক এক রেস্টুরেন্ট সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের অনুষ্ঠিত হয়। এসময় আজহারুল ইসলাম সহ ভুক্তভোগী শিক্ষক পরিবার ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ ও ক্ষোভের সাথে জানান, গত ১৪.৫.২০২৬ ইং তারিখে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও স্বার্থান্বেষী মহল সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিদ্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার ফলে শিক্ষাক আজহারুল ইসলাম সহ অনেকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তারা বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র, আলমারি ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ভাঙচুর করে এবং অফিস কক্ষ থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
প্রধান শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাঁকে অবরুদ্ধ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। শুধু প্রতিষ্ঠানে হামলাই নয়,প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ দিয়ে রাখে সন্ত্রাসীরা, এই ঘটনার পর থেকে তার পরিবারের লোকজনসহ সকলের উপরে হামলা ও মারধর করে সন্ত্রাসীরা । মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানটি দখল নেওয়ার জন্য সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান শিক্ষক এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের প্রতিনিয়ত পথিমধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে তিনি এবং তাঁর পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
”একটি পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন বর্বরোচিত হামলা এবং শিক্ষক ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
— সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হলেও অজ্ঞাত কারণে আসামিরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং প্রধান শিক্ষক, তাঁর স্বজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

