ফখরুদ্দিন হৃদয় শৈলকুপা প্রতিনিধি:
শৈলকুপা পৌর শহরকে পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি, সাজানো-গোছানো, আকর্ষণীয় ও আধুনিক নাগরিক জীবনের উপযোগী শহরে রূপান্তর করার দাবি বহুদিনের। শহরের সৌন্দর্য ও নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো—পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস কাউন্টার ও বাস চলাচল সরিয়ে নেওয়া।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শহরের প্রাণকেন্দ্রে বাস কাউন্টার থাকায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট, শব্দদূষণ ও জনভোগান্তি। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ পথচারীদের চলাচল প্রায়ই দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বাসের অবাধ প্রবেশ ও দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের কারণে শহরের প্রধান সড়কগুলো অনেক সময় অচল হয়ে পড়ে।
নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দাবি—শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে বাস কাউন্টার সরিয়ে শহরের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল গড়ে তোলা হোক। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে অনেকেই হাবীবপুর গো-হাটের আশপাশ অথবা কবিরপুর ডাল মিল এলাকার আশপাশে বাস কাউন্টার স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এসব জায়গা শহরের কেন্দ্র থেকে তুলনামূলক দূরে হওয়ায় সেখানে বাস টার্মিনাল স্থাপন করলে শহরের ভেতরে যানজট অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের মতে, দেশের অনেক পৌর শহরেই এখন শহরের বাইরে বাস টার্মিনাল স্থাপন করা হচ্ছে, যাতে শহরের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় ভারী যানবাহনের চাপ কমে এবং নাগরিক পরিবেশ উন্নত হয়। একই উদ্যোগ শৈলকুপায় নেওয়া গেলে শহরটি আরও পরিচ্ছন্ন, শান্ত ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে শৈলকুপার অনেক নাগরিক মনে করেন, বাস কাউন্টার স্থানান্তর করা গেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র হবে আরও প্রাণবন্ত ও দৃষ্টিনন্দন। পথচারীদের চলাচল সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে এবং শহরের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে যদিও দুরপাল্লার কিছু বাস গোহাটা থেকে ছাড়ে কিন্তু কাউন্টার শহরের মধ্যে আর গাড়ি থাকে দুরে এতে করে যাত্রীদের মাঝে মধ্যেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে। তাই কাউন্টার এবং গাড়ি ছাড়ার যায়গা পাশাপাশি হলে যাত্রীদের অনেক সুবিধা হবে বলে অনেকেই মনে করেন।
সাধারণ মানুষ এখন আশা করছেন, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন এবং শৈলকুপা পৌর শহরকে সত্যিকার অর্থেই একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও জনবান্ধব শহরে রূপ দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

