[মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিবেদক]৩০ মার্চ ২০২৬
রাজশাহীর মোহনপুরে ফসলি জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খনন করতে বাধা দেয়ায় তরুণ কৃষক আহমেদ জোবায়েরকে (২২) ভেকু মেশিনের নিচে ফেলে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। ঘটনার তিন মাস পর মামলার প্রধান আসামিসহ এজাহারনামীয় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৫।
সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১:৩০ ঘটিকায় রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন কোর্ট স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন১. মোঃ মোনারুল ইসলাম ওরফে রুহুল আমিন (৩৩) – মামলার ১নং আসামি।
২. মোঃ রুবেল হোসেন (৩৮) – মামলার ৩নং আসামি।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাতে মোহনপুর থানার বড় পালশা পূর্ব বিলে ভেকু মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছিল। ভিকটিম আহমেদ জোবায়েরসহ স্থানীয় গ্রামবাসী সেখানে গিয়ে মাটি কাটতে বাধা দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এসময় মামলার ১নং আসামি রুহুল আমিন, ৩নং আসামি রুবেল এবং ৪নং আসামি আনিসুর রহমান বকুল উপস্থিতদের ভেকু দিয়ে পিষে ফেলার নির্দেশ দেন।
আসামিদের নির্দেশে চালক ভেকু দিয়ে আঘাত করলে জোবায়ের মাটিতে পড়ে যান। এরপর নির্মমভাবে ভেকু মেশিনের মাথা দিয়ে টেনে তাকে চাকার নিচে ফেলে শরীরের ওপর দিয়ে মেশিন চালিয়ে দেয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বাবা মোঃ রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় ৮ জন নামীয় এবং ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১, ধারা: ৩০২/১০৯/১১৪/৩৪ দণ্ডবিধি)। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে ছিল।
র্যাব-৫ এর একটি চৌকস দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে এবং কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের আসামিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

