সারোয়ার নেওয়াজ শামীম (হবিগঞ্জ) হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ১০০ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদক জাতীয় ‘এসকফ’ (ESkuf) সিরাপসহ মোঃ নাজমুল হোসাইন নাহিদ (২০) নামে মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ । উদ্ধারকৃত তরল মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ২ লক্ষ টাকা।
গতকাল(২১ মে, ২০২৬)গভীর রাতে চুনারুঘাট থানাধীন ০৭নং উবাহাটা ইউনিয়নের নতুনব্রীজ গোলচত্ত্বরএলাকায় একটি জরুরি চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ঐ ব্যক্তিকে আটক করা হয়। জানযায়, গ্রেফতারকৃত নাজমুল হোসাইন নাহিদ সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের (৬নং ওয়ার্ড) পাড়ুয়া বটেরতল গ্রামের মোঃ মস্তফার ছেলে। তার মায়ের নাম মোছাঃ নেওয়ারুন নেছা।
সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ তারেক নাজিরের নেতৃত্বে পিএসআই সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল পাম্পু বড়ুয়া ও কনস্টেবল হাফিজুর রহমানসহ পুলিশের একটি টিম মঙ্গলবার রাতে ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদক উদ্ধার ডিউটি করছিলেন। রাত ১১:৫০ ঘটিকায় শ্রীকুটা বাজার এলাকায় অবস্থানকালে তারা গোপন সূত্রে জানতে পারেন যে, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘এমআর পরিবহন’ (রেজিঃ নং- ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৪৪৪৪) নামের একটি বাসে করে কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী যাত্রীবেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদক নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছে। বিষয়টি চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শফিকুল ইসলামকে অবহিত করা হলে তাঁর নির্দেশনায় পুলিশের বিশেষ নৈশকালীন ডিউটি টিমসহ সিএনজি যোগে রাত (১২:১০) ঘটিকায় নতুনব্রীজ গোলচত্ত্বর হাইওয়েতে একটি জরুরি চেকপোস্ট বসানো হয়। পরবর্তীতে রাত( ১২:৪১) ঘটিকায় উক্ত বাসটি চেকপোস্টে এলে পুলিশ বাসটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করে। বাসের চালক, সুপারভাইজার ও সাধারণ যাত্রীদের উপস্থিতিতে তল্লাশিকালে বাসের যাত্রী নাজমুল হোসাইন নাহিদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে তাহার হেফাজতে থাকা একটি রেক্সিন কাপড়ের ব্যাগ তল্লাশি করে ভেতরে বিশেষভাবে রাখা( ১০০) একশত বোতল অবৈধ কোডিন ও ট্রাইপ্রোলিডিন হাইড্রোক্লোরাইড যুক্ত ভারতীয় ‘ESkuf’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
যেখানে প্রতি বোতলে ১০০ এমএল করে মোট ১০ লিটার তরল মাদক ছিল। পুলিশ রাত (১:৩০) ঘটিকায় উপস্থিত সাক্ষীদের স্বাক্ষরসহ এই মাদকদ্রব্য জব্দ করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামি পুলিশকে জানায়, সে দীর্ঘদিন ধরে আরও ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীর সহায়তায় সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কম মূল্যে এই মাদকদ্রব্য চোরাচালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল।
চুনারুঘাট থানা পুলিশ জানায়, বাদীর টাইপকৃত লিখিত এজাহারের প্রেক্ষিতে আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১৪(গ) এবং ৪১ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আজ (২১ মে) বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করা হবে। মামলার পরবর্তী তদন্তভার গ্রহণ করবেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) চুনারুঘাট।
ওসি মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক একটি মারাত্মক ব্যাধি,আমাদের কে মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুণ,আমরা চুনারুঘাট কে মাদকমুক্ত চাই।যুব সমাজ কে মাদকের কড়ালগ্রাস হতে রক্ষা করতে জবে।এ জন্য সমাজের সর্বস্তরে সচেতনা বাড়াতে হবে।

