মো. দিলুআর হোসেন – শাল্লা (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের শাল্লায় চলন্ত ইঞ্জিলচালিত নৌকায় এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে শাল্লা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত বখাটে যুবক হেলিম মিয়াকে (১৯) গ্রেফতার করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করেছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ঢাকার নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ২য় বর্ষের ছাত্রী। তিনি গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঢাকা থেকে তাঁর ভগ্নিপতির বাসায় শাল্লায় বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রওনা হন। শাল্লা থানাধীন কান্দিগাঁও ঘাট থেকে তিনি নৌকাযোগে ঘুঙিয়ারগাঁও যাওয়ার পথে দুপুর আনুমানিক ৩:৪৫ ঘটিকায় ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগের বিবরণে বলা হয়, নৌকাটি কান্দিগাঁও থেকে আনুমানিক ১ কিলোমিটার পূর্বদিকে কান্দখলা হাওরে পৌঁছালে নৌকার মাঝি হেলিম মিয়া (১৯) নৌকার ভেতরে বসা ওই ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করে। তরুণীটি চিৎকার শুরু করলে নৌকায় থাকা যাত্রী পিন্টু চন্দ্র দাস এগিয়ে আসেন এবং বখাটের কবল থেকে তাঁকে রক্ষা করেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নৌকা ঘাটে নেমে তাঁর ভগ্নিপতিকে বিষয়টি জানান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শাল্লা থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত হেলিম মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
শাল্লা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় শাল্লা থানায় রাত সাড়ে ৮টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ১০ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মামলা নং-০৬।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাল্লা থানার (ওসি) রোকিবুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ নিয়েছি এবং অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। নারীর নিরাপত্তা ও উত্ত্যক্তকরণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অবলম্বন করে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিকে সুনামগঞ্জের আদালতে আজ সাড়ে বারোটার দিকে প্রেরন করা হয়েছে ।” পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে বলেও তিনি জানান।

