আল-আমিন বিশেষ প্রতিনিধি শেরপুরঃ
ভারতের তুরা কারাগারে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ছয়জন মৎস্যজীবী। বুধবার বিকেলে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকোগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে তারা বাংলাদেশের মাটিতে প্রবেশ করেন। এ সময় পুরো সীমান্ত এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
বিজিবি, পুলিশ ও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে মুক্তিপ্রাপ্তদের নাকোগাঁও বন্দর ঘেঁষা সীমান্ত সড়ক দিয়ে নিয়ে আসা হয়। বিজিবির কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ছয়জন মৎস্যজীবী হাঁটছেন; মুখে ক্লান্তি, তবুও ঘরে ফেরার স্বস্তি স্পষ্ট। পাশে রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা, যারা পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেন।
কীভাবে আটক হয়েছিলেন মৎস্যজীবীরা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিলমারীর ওই ছয়জন মৎস্যজীবী জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনের মতোই মাছ ধরতে নদীতে নেমেছিলেন। নদীর স্রোতে নৌকা ভেসে গিয়ে ভুলবশত ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের আটক করে। পরে আদালতের আদেশে তাদের পাঠানো হয় মেঘালয়ের তুরা কারাগারে।
অপরিচিত দেশের কারাগারে দীর্ঘ মাস কাটাতে হয় তাদের, আর এই সময়টা পরিবারের কাছে ছিল ভয়ার্ত দুশ্চিন্তার দিন।
নাকোগাঁও বন্দরে স্বজনদের কান্না–হাসি মিলেমিশে একাকার
মুক্ত মৎস্যজীবীদের দেশে ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই নাকোগাঁও বন্দরে জড়ো হতে থাকে অসংখ্য মানুষ। স্বজনদের প্রত্যাশা–উৎকণ্ঠা শেষে যখন তারা ছেলেদের চোখের সামনে পেলেন, তখন বন্দরজুড়ে কান্না আর খুশির আবেগ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
কেউ ছুটে গিয়ে ধরলেন হাত, কেউ কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরলেন বুকে—এ যেন সীমান্তের ওপারে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ।
প্রশাসনের ভূমিকা
বিজিবি ও ভারতীয় বিএসএফের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় মৎস্যজীবীকে হস্তান্তর করা হয়। পরে নালিতাবাড়ী থানা–পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের নিজ নিজ পরিবারে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া
স্বজনদের চোখে এখন শুধু স্বস্তির জল। একজন মৎস্যজীবীর বাবা বলেন—
“মনে হইত আর দেখতে পাবো না। আজকে আল্লাহর রহমতে আমার ছেলেকে আবার বুকে জড়াতে পারছি।”
স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনা কর্মজীবী মানুষদের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল।

