মোড়েলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ কামালের বিরুদ্ধে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এই অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশ না পায়, সেজন্য তিনি স্থানীয় কিছু সংবাদকর্মীকে অনৈতিকভাবে ‘ম্যানেজ’ করে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
টাকা না দিলে মেলে না সেবা:
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও, ডাঃ কামাল বিভিন্ন অজুহাতে ও কৌশলে রোগীদের কাছ থেকে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয় না এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র মানুষকে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়। সম্প্রতি তার এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল চত্বর ও স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর ধামাচাপা দিতে ‘সাংবাদিক ম্যানেজ’ মিশন:
অভিযোগ উঠেছে, নিজের এই দুর্নীতির খবর ধামাচাপা দিতে ডাঃ কামাল তড়িঘড়ি করে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীর মুখোমুখি হন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জোর প্রচেষ্টা চালান। অভিযোগ রয়েছে, অনৈতিক সুবিধা বা প্রভাব খাটিয়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের প্রভাবিত বা ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করছেন। হাসপাতালের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, নিজের অপকর্ম আড়াল করতে এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের চোখ ফাঁকি দিতেই তিনি এই অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন।
সচেতন মহলের ক্ষোভ ও তদন্তের দাবি:
এদিকে, একজন সরকারি চিকিৎসকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তীতে খবর ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসী বলছেন, সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষের সেবার পরিবর্তে টাকা নেওয়া এবং তা ঢাকতে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
তারা অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ কামালের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন

