সজিব আহমেদ, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ধর্ষণের পর ঘটনা প্রকাশ করলে ভুক্তভোগীর অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং এসিড নিক্ষেপের হুমকির অভিযোগও আনা হয়েছে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আশিক মিয়াকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার চান্দাব গ্রামে গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় একটি লোমহর্ষক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের পর অভিযুক্ত তরুণ ভুক্তভোগীর অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে এবং তা প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, চান্দাব গ্রামের বাসিন্দা আশিক মিয়া (১৯) প্রায় দুই বছর ধরে একই গ্রামের ওই স্কুলছাত্রীকে রাস্তায় উত্ত্যক্ত করত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিত। বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর বাবা আশিককে সতর্কও করেছিলেন। অভিযুক্ত আশিক জামিরাপাড়া এসএম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। ভুক্তভোগীও একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর, রবিবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী ছাত্রী বাড়ির টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আশিক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় আশিক তার মোবাইল ফোনে ঘটনাটির অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে। এরপর বিষয়টি কাউকে জানালে পরিণতি খারাপ হবে বলে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ভয়ে মেয়েটি প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি কাউকে জানায়নি।
এরপর গত ১৫ নভেম্বর, রবিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত আশিক পুনরায় ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। ভুক্তভোগী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে আশিক তাকে ধারণ করা অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং এসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জানান, আশিকের হুমকির পর ঘটনাটি তিনি জানতে পারেন এবং কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ভালুকা মডেল থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি অভিযুক্ত আশিকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ভালুকা মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির এ বিষয়ে জানান, ভিকটিমের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে একটি এজাহার দায়ের করা হয়। পরে রোববার রাতে সংশ্লিষ্ট ধারায় পর্নোগ্রাফি ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার মূল আসামি আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

