মো:অলি উল্লাহ
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রতিবেদন
সিরাজগঞ্জ জেলার গ্রামবাংলায় এখনো ভোরের নীরবতা ভাঙে তাঁতের টুংটাং শব্দে। এই শব্দ শুধু কাপড় বোনার নয়—এটি বহন করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা স্থানীয় শিল্প ও সংস্কৃতির ইতিহাস। এখানকার তাঁতের শাড়ি কেবল একটি পোশাক নয়, এটি সিরাজগঞ্জের পরিচয়।
শাহজাদপুর, বেলকুচি ও চৌহালী এলাকার বহু পরিবার যুগের পর যুগ ধরে তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের নারী-পুরুষ সবাই কোনো না কোনোভাবে এই শিল্পে অংশ নেন। শাড়ির নকশা, রঙ ও বুননে ফুটে ওঠে বাংলার গ্রামীণ জীবন, উৎসব আর নারীর আবেগ।
একজন প্রবীণ তাঁতশিল্পী বলেন,
“আমাদের বাবা-দাদার হাত ধরেই এই কাজ শিখেছি। এই তাঁত শুধু রুটি-রুজি নয়, এটা আমাদের সংস্কৃতি।”
তবে আধুনিকতার চাপ ও বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতায় এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আজ সংকটের মুখে। তবুও অনেক শিল্পী এখনো আশা ছাড়েননি। তারা চান—তাঁতের শাড়িকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরতে।
সংস্কৃতিবিদদের মতে, স্থানীয় শিল্প ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে হলে তাঁতশিল্পকে শুধু ব্যবসা নয়, একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ ও ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প আবার প্রাণ ফিরে পাবে।
সিরাজগঞ্জের তাঁতের শাড়ি আজও বাংলার নারীর গর্ব। এই শিল্প বাঁচিয়ে রাখা মানেই স্থানীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে আগামীর জন্য সংরক্ষণ করা।

