নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের খন্দকার পাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে কারখানায় ভেজাল দস্তা সার তৈরি করে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে মালিক ইকরামুল খন্দকারের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কারখানার মূল ফটকে তালা দেওয়া রয়েছে,পরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,তারা বলেন এখন দিনে সার তৈরি করে না, রাতের আঁধারে কারখানায় দস্তা সার তৈরি করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন।
এলাকাবাসী বলেন কি সার তৈরি করে তা আমাদের জানা নেই, তবে অনেক সময় দেখা গেছে, মাটি,ছাই, টাইসের ডাস্ট এবং চক পাউডার,চুন নিয়ে আসেন।তারা বলেন সে, যে ভেজাল দস্তা সার তৈরি করে এই সার জমিতে দিলে ফসলের ভয়াবহ খতির আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায় কয়েক মাস আগে প্রশাসন এসে জরিমানা করেছিলেন এবং সব কিছু নষ্ট করে দিয়েছিলেন ,কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই আবার কারখানাটি চালু করেছে, এলাকাবাসী বলেন ইকরামুল কে, অনেক টাকা জরিমানা করেছিলেন প্রশাসন, বর্তমান দিনে না চালিয়ে রাতে কারখানায় সার তৈরি করছেন।
মালিক ইকরামুলকে, অবৈধ ভেজাল দস্তা সার তৈরির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি অনেক দিন ধরে এই সার সরবরাহ করছি কেউ তো কিছু বলেন নাই, তিনি বলেন আমি গরীব মানুষ আপনারা আমার খতি করবেন না।
এর আগেও প্রশাসন জরিমানা করেছেন অনেক টাকার খতি হয়েছে আপনারা কাউকে জানাবেন আপনাদের বিকাশ নাম্বার দিন আপনাদের খরচ পাঠিয়ে দিব। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনি যে প্যাকেট ব্যবহার করছেন বিভিন্ন কোম্পানির এই প্যাকেট আপনাকে কারা পারমিশন দিয়েছে অন্য কোম্পানির প্যাকেট ব্যবহার করে অবৈধভাবে বাজারে ভেজাল দস্তা সার তৈরি করে বিক্রি করছেন তিনি বলেন আমাকে কেউ বলেন নাই, আমি নিজের ইচ্ছায় প্যাকেট তৈরি করে প্যাকেট করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছি। ইকরামুল এর স্ত্রী বলেন ভাই আপনারা আমাদের খতি করবেন না,আমরা অনেক টাকার দেনায় পরে গিয়েছি আমরা গরীব মানুষ করে ফেলছি আর বেশি দিন চালাবো না,আপনারা আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে মাফ করে দিন,এই বিষয়ে কাউকে জানাবেন না, তাহলে অনেক বড় বিপদে পড়ে যাব।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ সেলিমুজ্জামান, জানায় ডিসেম্বরে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছিল, আবার যখন চালু করেছে তাহলে আপনারা কৃষি কর্মকর্তার সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন ভেজাল সার কৃষকদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ধরনের প্রতারণা রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তিনি বলেন কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং কারখানার মালিককে জরিমানা ও করা হয়। তিনি বলেন আমাদের ও অফিসিয়াল লোক রয়েছে তথ্য সংগ্রহে কিন্তু আবার চালু করেছে সেই বিষয়ে আমার জানা নেই, আপনাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম পুনরায় আবার কারখানাটি চালু করেছে, তাহলে আপনাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে আমাকে দিয়ে দিন,যে দিন অভিযান পরিচালনা করা হবে, আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

