হৃদয় রায়হান কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে, লালন বলে জাতের কী রূপ দেখলাম না এই নজরে’ এই অমর বাণীর সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণে পালিত হবে দোলপূর্ণিমা-লালন স্মরণোৎসব।
সোমবার (২ মার্চ) কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়া প্রাঙ্গণে এবারের আয়োজন থাকছে সংযত ও সীমিত পরিসরে।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এ বছর গ্রামীণ মেলা ও গানের আসর রাখা হয়নি। আয়োজন সীমাবদ্ধ থাকবে দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে। সাধু-গুরু ও ভক্তদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণানুষ্ঠান ও আলোচনা সভা।
লালন অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে প্রশাসনের কর্মকর্তা, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেবেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাহ্যিক জৌলুস কম থাকলেও লালনের মানবতাবাদী দর্শন ও সাম্যের বাণী তুলে ধরাই এবারের মূল লক্ষ্য।
উৎসবকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। পুরো প্রাঙ্গণে থাকবে কড়া নজরদারি, যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।
এদিকে আখড়া ও মাজার প্রাঙ্গণ ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। গেটসহ আশপাশ সাদা রঙে রাঙিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে উৎসবস্থল। আগত সাধু-গুরুদের জন্য রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা।
আয়োজকদের ভাষ্য, মাহে রমজানের কারণে উৎসবের আমেজ সীমিত হলেও হৃদয়ের টান অটুট থাকবে। লালনের বাণী মানুষকে ভেদাভেদ ভুলে মানবতার পথে চলার আহ্বান জানায়। সেই চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।

