• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলার প্রশ্ন: নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও ন্যায্য ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি জরুরি 

     swadhinshomoy 
    14th Mar 2026 2:20 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    রাহমান তৈয়ব

    বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সামাজিক ও পারিবারিক পুনর্মিলনের এক অনন্য উপলক্ষ। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে কর্মজীবী লাখো মানুষ ঈদের সময় নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যেতে চান। ফলে কয়েক দিনের মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এই বিপুল যাত্রীচাপকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই দেখা দেয় নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তি—অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকেট সংকট, কালোবাজারি, ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ, যানজট এবং পরিবহন খাতে অনিয়ম। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারের কার্যকর নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
    ঈদযাত্রাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে। প্রতি বছর ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ট্রেন ও নৌযানেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। অনেক পরিবহন কোম্পানি যাত্রীচাপের সুযোগ নিয়ে টিকেট সংকটের অজুহাত দেখিয়ে দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়া আদায় করে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বেড়ে যায়। সরকার সড়ক পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়া তালিকা নির্ধারণ করলেও তা বাস্তবায়নে কঠোর মনিটরিং না থাকলে এই অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বাস টার্মিনাল, কাউন্টার ও মহাসড়কে নিয়মিত তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
    রেলপথ সাধারণ মানুষের কাছে ঈদযাত্রার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী মাধ্যম। কিন্তু ঈদের সময় ট্রেনের টিকেট পাওয়া অনেকের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থা চালু হলেও কালোবাজারি এবং টিকেট সংগ্রহে নানা অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রকৃত যাত্রীরা টিকেট না পেলেও দালাল চক্র অতিরিক্ত দামে টিকেট বিক্রি করছে। ফলে টিকেট না পেয়ে অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করেন, যা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ বন্ধে রেল কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি টিকেটিং ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
    নৌপথও ঈদযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য। ঈদের সময় লঞ্চ ও ফেরিতে যাত্রীচাপ হঠাৎ করে বেড়ে যায়। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতি এবং তদারকির অভাব অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। অতীতে নৌদুর্ঘটনার বিভিন্ন ঘটনা আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে যে এই খাতে নিয়মিত তদারকি অপরিহার্য। প্রতিটি লঞ্চে লাইফ জ্যাকেট, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং যাত্রীসংখ্যার সীমা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
    সড়কপথে ঈদযাত্রার সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো যানজট ও দুর্ঘটনা। রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার প্রধান মহাসড়কগুলোতে ঈদের সময় দীর্ঘ যানজট দেখা যায়। অনেক সময় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং চালকদের বেপরোয়া প্রতিযোগিতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে অনেক চালক ক্লান্ত হয়ে পড়েন, যা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তাই সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের উচিত নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
    ঈদযাত্রার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাসড়ক, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে পুলিশ, র‍্যাব এবং ট্রাফিক বিভাগের উপস্থিতি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক। একই সঙ্গে পরিবহন খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদার করা দরকার। যেসব পরিবহন প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবে বা নিয়ম লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে অন্যদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি হবে।
    প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ঈদযাত্রার ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে পারে। অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও নিরাপদ করা গেলে টিকেট কালোবাজারি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন নম্বর, মোবাইল অ্যাপ বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা গেলে অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা সহজ হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সচেতনতা প্রচার করা যেতে পারে, যাতে যাত্রীরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অবগত হন।
    তবে এই সমস্যাগুলোর সমাধানে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; পরিবহন মালিক, শ্রমিক এবং যাত্রীদের সম্মিলিত সচেতনতাও প্রয়োজন। পরিবহন মালিকদের উচিত যাত্রীসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অযৌক্তিক ভাড়া আদায় থেকে বিরত থাকা। শ্রমিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে হবে। অন্যদিকে যাত্রীদেরও ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং আইন মেনে চলা জরুরি।
    ঈদ আনন্দের উৎসব। এই আনন্দের পথে যেন ভোগান্তি, অনিয়ম বা দুর্ঘটনা বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। কঠোর নজরদারি, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হতে পারে।
    সর্বোপরি বলা যায়, ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। সড়ক, রেল ও নৌপথ—তিনটি খাতেই যদি কার্যকর তদারকি, সুশাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে লাখো মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। তখনই ঈদের প্রকৃত আনন্দ পূর্ণতা পাবে এবং যাত্রাপথও হয়ে উঠবে নিরাপদ ও মানবিক।

    লেখক: শিক্ষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    March 2026
    S M T W T F S
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    293031