এ আর সুমন
বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে, আসছে আগামী ৬ ই সেপ্টেম্বর, কুল কায়েনাতের শ্রেষ্ঠ রহমত ও বরকত,দোজাহানের বাদশাহ হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর ১,৫০০ তম শুভ জন্মদিন,১২ই রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে, ঢাকার রাজধানী মতিঝিলের,বাবে রহমত দেওয়ান বাগ শরীফে অনুষ্ঠিত হবে,আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন। বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর তোপখানার বিয়াম অডিটরিয়ামে দেওয়ানবাগীর দল ওলামা মিশন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে, এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ ই রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে সভার প্রধান অতিথি, সুফি সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব এ খোদা দেওয়ানবাগী (র:) এর সুযোগ্য উত্তরসূরী,দেওয়ানবাগ শরীফের,মহা পরিচালক ও সমন্বয়ক ইমাম প্রফেসর, ডক্টর কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর তিনি বলেন, সৃষ্টি কূলের শ্রেষ্ঠ ঈদ,দয়াল রাসূলে (সা.) এর শুভ জন্মঈদ। হযরত রাসুল (সা.)-এর শুভ জন্মদিন, ১২ই রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) কিন্তু সমাজে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত ছিল।হযরত রাসুল (সা.) এর শুভ জন্মদিন ও ওফাত দিবস একই তারিখে হয়েছে। এর ফলে হযরত রাসুল (সা.) এর শুভ জন্মদিন, মুসলিম জাতি পালন করছে না, এই ভেবে আমরা কি নবিজির ওফাত দিবস পালন করব, নাকি জন্ম দিবস পালন করব। এই প্রসঙ্গে আমার মহান মোর্শেদ বাবা দেওয়ানবাগী (রা.) বলেন হযরত রাসূল (স:) এর ওফাত দিবস ১লা রবিউল আউয়াল,আর জন্ম দিবস ১২ ই রবিউল আউয়াল। রাসুল (সা:) এর জন্মদিন শুধু মুসলিম জাতির জন্য নয় বরং সমস্ত কুল-কায়েনাতের জন্য, অবারিত রহমত ও বরকত হওয়া সত্ত্বেও মুসলিম জাহান ওই দিবসে আনন্দ, করতে না পেরে এই অবারিত নেয়ামত পূর্ণ রহমত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই দেখে, সুফি সম্রাট দেওয়ান বাগী (র.) সারা দুনিয়ার পথ ভোলা দিশেহারা মানুষকে, আল্লাহ ও রাসুলের পথ দেখিয়েছেন। মানুষকে আত্মশুদ্ধি ,দিল জিন্দা, নামাজে হুজুরি ও আশেকে রাসুল হওয়ার সুমহান শিক্ষা দিয়ে, আশেকে রাসুল বানিয়েছেন। মানুষ কিভাবে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের নৈকট্য লাভ করতে পারে, নামাজে মেরাজ অর্জন করতে পারে ও ক্লার্বে আল্লাহ নামের জিকির জারি করতে পারে, সেই শিক্ষা দিয়েছেন। দেওয়ান বাগী হুজুর রাষ্ট্রীয় ভাবে,পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) বাস্তবায়ন করেছেন। সরকারি ভবন আলোক সজ্জা ও সরকারি ছুটির ব্যবস্থা করেছেন। আলোচনা সভায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পাঁচ শতাধিক ওলামায়ে কেরাম গণ আলোচনা সভায় যোগদান করেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা:) এর বিভিন্ন গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে ওলামায়ে কেরাম বলেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) হচ্ছে, সৃষ্টিকুলের সবচেয়ে বড় ঈদ। প্রকৃতপক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) শুধুমাত্র মুসলিম জাতির জন্য নয়, বরং সমগ্র সৃষ্টি তথা কুল কায়েনাতের জন্য আনন্দের দিন। হযরত রাসুল (সা.)-এর শুভ জন্ম দিনে যারা খুশি হন, মহান আল্লাহ্ তাদের ক্ষমা করে দেন। অনুষ্ঠানে ওলামায়ে কেরাম গণ সবাইকে ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে আনন্দোৎসব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য দেন হযরতুল আল্লামা মুহাদ্দেছ এমরান হোসাইন মাজহারী, হযরত আলহাজ সাব্বীর আহমদ ওসমানী, হযরত মুফতি রফিকুল ইসলাম, মোফাচ্ছেরে কোরআন হযরত ফখরুদ্দীন রাজী, হযরত রুহুল আমিন যুক্তিবাদী, হযরত মাহবুবুর রহমান আজাদী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. পিয়ার মোহাম্মদ, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল আজিজ খলিফা প্রমুখ। বক্তারা দেশবাসীর সবাইকে মহা ধুমধামের সঙ্গে এই ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান। প্রধান অতিথি ইমাম প্রফেসর ডক্টর কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর তার মহা মূল্যবান বাণী মোবারক দিয়ে, বিশ্ববাসীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন।

