মাইনুল ইসলাম রাজু
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলীতে দিন দিন বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত সাত দিনে ৫৯ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৭ দিনে মোট ৫৯ জন রোগী ভর্তি হন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৩ জন। অথচ ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড রয়েছে মাত্র ৬টি। ফলে বেড সংকটের কারণে অনেক রোগী বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে ভোগান্তি বাড়ছে রোগীদের।
সরকারি হিসেবে এ সংখ্যা পাওয়া গেলেও গ্রামের চিত্র আরও উদ্বেগজনক বলে জানা গেছে। অনেক রোগী হাসপাতালে না এসে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুলিশাখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ফারুক আকন জানান, প্রায় প্রতিটি ঘরেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বেডের অভাবে রোগীরা বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডালাচারা গ্রামের আড়াই বছরের শিশু তানহা ইসলাম ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও বেড না পেয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে। তার মা তামান্না বেগম বলেন, “গরমে ফ্যান না থাকায় শিশুটি খুব কষ্ট পাচ্ছে।”
একই চিত্র দেখা গেছে চাওড়া ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের তিন বছরের জাহিদুল ইসলামের ক্ষেত্রেও। তার মা আকলিমা বেগম জানান, “প্রচণ্ড গরমে বারান্দায় থাকায় ছেলের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা হচ্ছে।”
এছাড়া হলদিয়া ইউনিয়নের কুলাইচর গ্রামের বৃদ্ধা কহিনুর বেগম বমি ও পাতলা পায়খানা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনিও বেড না পেয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হুমায়ুন ইসলাম সুমন জানান, বিশুদ্ধ পানির অভাব ও প্রচণ্ড গরমে অনিরাপদ খাবার গ্রহণের কারণে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, “তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগ বাড়ছে। ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বেড সংকট দেখা দিয়েছে। তবে চিকিৎসক ও নার্সদের সর্বোচ্চ চেষ্টায় রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত খাবার ও আইভি স্যালাইন মজুদ রয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত অতিরিক্ত বেড ও চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

