স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক স্বাধীন সময়:
ঢাকা রেশনিং দপ্তরের কর্মকর্তা তৌফিক ই এলাহির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অবশেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। দৈনিক স্বাধীন সময় পত্রিকায় “৭ কর্মদিবস পেরিয়েও দায়িত্ব ছাড়েননি কর্মকর্তা, প্রশ্নে প্রশাসন” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পরই সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তৌফিক ই এলাহির বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—এ মর্মে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ জারি হওয়া বদলি আদেশ অনুযায়ী তৌফিক ই এলাহিকে দেবিদ্বার উপজেলায় বদলি করা হলেও তিনি নির্ধারিত ৭ কর্মদিবসের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কর্মবিমুক্ত হিসেবে গণ্য করার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
কিন্তু অভিযোগ ওঠে, তিনি দীর্ঘ সময় দায়িত্ব হস্তান্তর না করে প্রায় এক মাস পর ৫ এপ্রিল তা সম্পন্ন করেন। শুধু তাই নয়, দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও তাকে ঢাকা রেশনিংয়ের ডি-৩ এলাকার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা নিয়ে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
দৈনিক স্বাধীন সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় আসে। এরই প্রেক্ষিতে খাদ্য অধিদপ্তর দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কার্যক্রম পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়।
দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, “প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদলি ও দায়িত্ব হস্তান্তরের নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো কর্মকর্তা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের বিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুরো বিষয়টি এখন প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর।

