• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন পথ দেখাচ্ছে চীনা মডেল 

     swadhinshomoy 
    08th Apr 2026 7:45 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    আন্তর্জাতিক:
    কিছুদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর কিছু গণমাধ্যম ও বিশ্লেষক তথাকথিত ‘চায়না শক ২.০’ মতবাদ প্রচার করছেন। তাঁরা দাবি করেন, চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি করছে এবং বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভর করে নিজেদের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা শোষণ করছে। তাঁদের মতে, এটি উন্নত দেশগুলোর বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে বাজারের অংশীদারিত্ব কেড়ে নিচ্ছে এবং অন্যান্য উদীয়মান বাজার অর্থনীতির দেশগুলোকে উৎপাদন শিল্পের নিম্ন-মূল্য সংযোজন অংশে সীমাবদ্ধ রাখছে। তাঁরা আরও দাবি করেন যে, এটি ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন শিল্পের যুগের চেয়েও বিশ্ব অর্থনীতিতে বেশি ‘গুরুতর প্রভাব’ ফেলছে।

    মূলত, ‘চায়না শক ২.০’ হলো ‘চীনা উদ্বৃত্ত উৎপাদন ক্ষমতা তত্ত্বের’ একটি পুনরাবৃত্তি মাত্র এবং এটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ‘চীনা হুমকি তত্ত্বের’ বহিঃপ্রকাশ। এই মতবাদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যে বিরাট সুযোগ এনেছে তা উপেক্ষা করে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের সংরক্ষণবাদী নীতি বাস্তবায়নের পথ সুগম করতে চীনকে কলঙ্কিত করে। এটি শুধু চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির সুস্থ বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে। তাই এই মতবাদের বিশ্লেষণ করা জরুরি।

    ‘চায়না শক তত্ত্বের’ পেছনে রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর এক ধরনের উদ্বেগ
    পর্যায়ক্রমে ‘চায়না শক তত্ত্বের’ মতো রাজনৈতিক বক্তব্য নতুন করে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়। এর পেছনে প্রতিবারই একই ঘটনার প্রতিফলন দেখা যায়: ‘পশ্চিমের পতন ও পূর্বের উত্থান’-এর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনের মুখে, বিশেষ করে চীনের অর্থনৈতিক শক্তি, প্রযুক্তিগত শক্তি এবং সামগ্রিক জাতীয় শক্তির ব্যাপক বৃদ্ধি দেখে পশ্চিমা দেশগুলোর কিছু লোক চরম উদ্বিগ্ন ও অস্বস্তিবোধ করছেন।

    একটি নির্দিষ্ট সত্য হলো: চীন ইতিমধ্যে উন্নত হয়েছে এবং বাস্তবিক শিল্প প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জন করেছে। ২০২৫ সালে, বড় আকারের উচ্চ প্রযুক্তির উৎপাদন শিল্পের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বড় আকারের সমগ্র শিল্পের তুলনায় ১২.৭ শতাংশ বেশি। বিশাল বাজার, সম্পূর্ণ শিল্প ব্যবস্থা, প্রচুর প্রতিভার ভাণ্ডার, চমৎকার উদ্ভাবন পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত বাজার প্রতিযোগিতাসহ একাধিক সুবিধার সম্মিলিত প্রভাবে কিছু শিল্প ও শিল্প শৃঙ্খল ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনের উচ্চ ও মাঝারি স্তরে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কিছু প্রথম সারির চীনা প্রতিষ্ঠান আজ শিল্পের ‘উদ্ভাবক’ বা ‘নেতৃত্বকারী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

    একটি স্বীকৃত নিয়ম হলো: প্রতিযোগিতা হলো বাজার অর্থনীতির মূল বৈশিষ্ট্য এবং উত্তমের উত্থান ও নিকৃষ্টের পতন বাজার প্রতিযোগিতার অনিবার্য ফলাফল। যার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বেশি, তিনিই বাজারের বড় অংশ দখল করবেন; শিল্প শৃঙ্খলে যার ভূমিকা নেতৃত্বমূলক, তিনিই শিল্প শৃঙ্খল ও ভ্যালু চেইনের পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দেবেন। বাজার প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি সব সময়ই গতিশীল, কেউ একবার জিতে চিরকালের জন্য শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারে না। যারা বাজার নিয়মকে সম্মান করে এবং প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও শিল্প পরিবর্তনের ঐতিহাসিক সুযোগ সময়মতো গ্রহণ করে, তারাই এগিয়ে যায় ও দ্রুত উন্নতি করে। বাজার নিয়ম লঙ্ঘন করে, সংরক্ষণবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের মতো নীতি গ্রহণ করে, এমনকি অন্যদের উন্নয়নকে দমন করার চেষ্টা করেও নিজেকে চিরকাল শক্তিশালী রাখা সম্ভব নয়।

    শুধু চীন নয়, বৃহৎ সংখ্যক উদীয়মান বাজার অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের শিল্পায়ন ও আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে, যা বিশ্বের মানচিত্রকেই আমূল বদলে দিচ্ছে। মানবসমাজের উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ঘটনা। বিশ্বের সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা এই নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা উচিত নয় যে, ‘গরিব আরও গরিব হবে আর ধনী আরও ধনী হবে’। কিন্তু এই সত্যতাই পশ্চিমা দেশগুলোর কিছু লোকের ‘অন্যের ভালো দেখতে না পারার’ মানসিকতায় আঘাত হেনেছে। কিছু উন্নত দেশের জন্য, চীনের মতো উদীয়মান বাজার অর্থনীতির দেশগুলোর দ্রুত শক্তিবৃদ্ধি, বিশেষ করে যেসব উচ্চ প্রযুক্তির উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে তারা নিজেরা দীর্ঘদিন ধরে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল, সেখানেও চীনের পশ্চাতে এসে এগিয়ে যাওয়া দেখে মানসিকভাবে কিছুটা খারাপ লাগা স্বাভাবিক। আর এই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকেই উদ্ভূত ‘চায়না শক ২.০’ মতবাদ কোনোভাবেই সঠিক হতে পারে না।

    চীনের উন্নয়ন বিশ্বের জন্য নেতিবাচক প্রভাব নয়, বরং সুযোগ এনেছে ১৪০ কোটির বেশি মানুষের একটি উন্নয়নশীল বৃহৎ দেশ হিসেবে, বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পুরাতন ও নতুন চালিকাশক্তির রূপান্তরের কষ্টকর সময়ের মধ্যেও চীন যখন ‘পরিমাণগত উল্লম্ফন’ ও ‘গুণগত উৎকর্ষ’ অর্জন করেছে, এটি বিশ্বের জন্য একটি বিরাট ইতিবাচক ঘটনা।

    প্রথমত, চীন বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ‘অবদানকারী’ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ‘স্থিতিশীল নোঙর’। ‘চতুর্দশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ মেয়াদে চীন বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বার্ষিক গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ অবদান রেখেছে।

    দ্বিতীয়ত, চীন সব দেশের কাছে স্বাগত একটি বিশাল বাজার। বিশ্বের শীর্ষ পণ্য বাণিজ্য দেশ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম পণ্য ভোগের বাজার হিসেবে চীন ১৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। চীন টানা ১৭ বছর ধরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি বাজার।

    তৃতীয়ত, চীন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত বিনিয়োগের উত্তম স্থল। নিয়ম, বিধি, ব্যবস্থাপনা ও মানের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক উন্মুক্ততা ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হয়েছে। উৎপাদন শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতির সমস্ত সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে এবং টেলিযোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসহ সেবা খাতে বিদেশি বিনিয়োগের পাইলট প্রকল্প স্থির গতিতে এগোচ্ছে।

    চতুর্থত, চীন বিশ্বের সবুজ উন্নয়নের একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সদস্য। ২০২৫ সালে, অ-জীবাশ্ম জ্বালানির মোট ব্যবহার পেট্রোলিয়ামের মোট ব্যবহারকে অতিক্রম করেছে। বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থাপিত ধারণক্ষমতা প্রথমবারের মতো তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। নতুন ধরনের শক্তি সঞ্চয়ের স্থাপিত ধারণক্ষমতা বিশ্বের মোটের ৪০ শতাংশেরও বেশি।

    পঞ্চমত, চীন সব দেশের সঙ্গে উন্নয়নের সুযোগ ও লভ্যাংশ ভাগ করে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চীন সব সময় একটি উন্নয়নশীল বৃহৎ রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে আসছে এবং সব দেশকে চীনের উন্নয়নের দ্রুতগামী ট্রেনে চড়ার আমন্ত্রণ জানায়। চীন ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ’ সামনে রেখেছে এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে ভৌত সংযোগ (Hard Connectivity) ও নীতিগত সংযোগ (Soft Connectivity) জোরদার করেছে, যা টেকসই বৈশ্বিক উন্নয়নে গতি জোগাচ্ছে। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে চীন তার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে এমন স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে ১০০ ভাগ ট্যারিফ লাইনের পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক শিল্প শৃঙ্খলে অন্তর্ভুক্ত হতে সাহায্য করছে।
    এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, চীন বিশ্বের জন্য আরও বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় বাজার সুযোগ, বিনিয়োগ সুযোগ, প্রবৃদ্ধির সুযোগ এবং টেকসই উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। যেমন একজন বিদেশি বন্ধু বলেছেন, “চীন একটি জ্ঞান-সমৃদ্ধ বইয়ের মতো, যার প্রতিটি পাতায় সুযোগ লেখা আছে।”

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রও চীনের উন্নয়ন থেকে লভ্যাংশ পেয়েছে। সম্প্রতি ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এ ‘চায়না শক’-এর সত্যতা শীর্ষক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে: গবেষণায় দেখা গেছে, চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্য ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে, মার্কিন ভোক্তা মূল্য প্রায় ১.৯ শতাংশ কমে যায়। মার্কিন কোম্পানিগুলোও এর থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে।

    বিশ্বব্যাপী দেখলে, ‘চীনা সুযোগ’ ব্যাপকভাবে স্বীকৃত ও সমাদৃত একটি আখ্যান। শুধু সবুজ জ্বালানি খাতের উদাহরণ নিলেই দেখা যায়, চীন বিশ্বের, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য উচ্চমানের ও কার্যকর সবুজ ও নিম্ন-কার্বন পণ্য সরবরাহ করে যাচ্ছে। বায়ুবিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ এবং নতুন শক্তির গাড়ির পণ্য ২০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়, যা বিশ্বব্যাপী বায়ু ও সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় যথাক্রমে ৬০ শতাংশ ও ৮০ শতাংশের বেশি কমিয়েছে।
    আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চীনের উন্নয়ন ‘আধুনিকীকরণ মানেই পাশ্চাত্যায়ন’-এর ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে দিয়েছে এবং ‘চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকীকরণ’-এর পথ সফলভাবে উন্মোচন করেছে। চীন সেই পথ অনুসরণ করেনি যা কিছু পশ্চিমা দেশ যুদ্ধ, উপনিবেশবাদ ও লুণ্ঠনের মাধ্যমে অতিক্রম করেছে; বরং চীন তার সকল জনগণের কঠোর পরিশ্রম, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেকে শক্তিশালী করেছে। চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন আধুনিকীকরণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আধুনিকীকরণের একটি নতুন পথ উন্মোচিত করেছে এবং যেসব দেশ ও জাতি দ্রুত উন্নয়ন চায় এবং নিজেদের স্বাধীনতা বজায় রাখতে চায়, তাদের জন্য একটি নতুন বিকল্প সৃষ্টি করেছে।

    যদি ‘চায়না শক থিওরি’ একটি ভ্রান্ত ধারণা হয়, তবে আমাদের যে আসল বিষয়টির ওপর মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন তা হলো, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শাসন ব্যবস্থা একপাক্ষিকতা ও সংরক্ষণবাদের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর একপাক্ষিকতা ও সংরক্ষণবাদের নেতিবাচক প্রভাবের সম্মুখীন হয়ে চীন ধারাবাহিকভাবে মুক্ত বাণিজ্যের পক্ষে কথা বলেছে ও তাকে সমর্থন করেছে। চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে কেন্দ্র করে বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার কর্তৃত্ব ও কার্যকারিতাকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করেছে এবং উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত করেছে। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং একাধিক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে চীনের প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেছেন: একটি ন্যায়সঙ্গত ও সুশৃঙ্খল বহুমেরু বিশ্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন।

    ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ বলতে বোঝায় আরও পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন অর্জন করা। উন্নয়ন সকল দেশের অধিকার, মুষ্টিমেয় কিছু দেশের বিশেষ সুবিধা নয়। ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ মানে প্রতিটি দেশের নিজস্ব জাতীয় পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত উন্নয়ন পথকে সম্মান করা। বর্তমানে বিশ্বে ভিন্ন ভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ব্যবস্থাসহ ২০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল রয়েছে; অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে একই উন্নয়ন মডেল গ্রহণের দাবি করা অগ্রহণযোগ্য। সকল দেশের উচিত একে অপরের আইনসম্মত স্বার্থ ও যুক্তিসঙ্গত উদ্বেগকে সম্মান করা, জাতীয় উন্নয়নের পার্থক্য ও বৈচিত্র্যকে স্বীকার করা, মতপার্থক্য বজায় রেখে অভিন্ন ভিত্তি খোঁজা এবং অন্যান্য দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বস্তুনিষ্ঠ ও যৌক্তিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা।

    ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে, অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন একটি অপরিবর্তনীয় ঐতিহাসিক ধারা, উৎপাদন শক্তির বিকাশের একটি বস্তুনিষ্ঠ আবশ্যকতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এক অনিবার্য ফল। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের সুস্থ ও সুশৃঙ্খল অগ্রগতির মাধ্যমেই বিশ্ব অর্থনীতি সমৃদ্ধ হতে পারে। ‘চায়না শক’-কে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এই সত্যকে আড়াল করতে পারে না যে, বর্তমান বাণিজ্য সংরক্ষণবাদ বিশ্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। শুধুমাত্র একটি ন্যায্য, ন্যায়সঙ্গত, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ও বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমেই সকল দেশ অভিন্ন সমৃদ্ধির পথে যাত্রা শুরু করতে পারে।

    সূত্র:স্বর্ণা-তৌহিদ-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রু

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    April 2026
    S M T W T F S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    2627282930