শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ
সিলেটের পথশিশু ফুল বিক্রেতা ছোট্ট ফাইযাকে ঘিরে আজ তোলপাড় শুরু হয়েছে, যা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনার মাধ্যমে আলোচনায় আসে মেয়েটি, যখন একজন মানবিক ব্যক্তি—ফাহিম আল চৌধুরী—তার পাশে দাঁড়ান।
তবে প্রশ্ন উঠেছে সমাজের অন্যান্য অংশকে ঘিরে, বিশেষ করে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে। দেশে অসংখ্য সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী থাকা সত্ত্বেও এতদিন এই অসহায় শিশুটির জীবন-সংগ্রাম কি তাদের চোখে পড়েনি—এমন প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
ঘটনার পরপরই দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যক্তি ও কনটেন্ট নির্মাতারা ক্যামেরা নিয়ে ছুটে আসছেন ফাইযার কাছে। অনেকেই তার কষ্টের গল্প তুলে ধরার নামে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কেউ কেউ এই পরিস্থিতিকে “কনটেন্ট” হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন।
এদিকে মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই শিশুটির ভবিষ্যৎ কী? তার শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা নিয়ে কার্যকরভাবে কতজন কাজ করছে? সাময়িক সহানুভূতি দেখানোর বাইরে বাস্তব কোনো উদ্যোগ কতটা নেওয়া হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সচেতন মহলের মতে, মানবিক গল্পকে ব্যবসায় পরিণত করা সমাজের জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত। প্রকৃত সহানুভূতি মানে শুধু প্রচার নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—আমরা কি সত্যিই মানবিক, নাকি শুধুই ভাইরালের পেছনে ছুটে চলা নির্দয় দর্শক?

