আব্দুল আজিজ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নিতে বর্ণিল সাজে সেজেছে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নজিপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস। বর্ষবরণের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে কলেজ প্রাঙ্গণ ও এর চারপাশের রাস্তায় আঁকা হয়েছে বিশাল ও আকর্ষণীয় আলপনা।
আলপনায় ফুটেছে লোকজ সংস্কৃতি
সরেজমিনে দেখা যায়, নজিপুর সরকারি কলেজের মূল ফটক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ভবন ও শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা জুড়ে তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আবহমান বাংলার রূপ। আলপনায় ফুটে উঠেছে গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গ— মাছ, পাখি, ফুল, লতাপাতা এবং ঐতিহ্যবাহী কুলা-পঙ্খা ও জ্যামিতিক নকশা। লাল, সাদা, হলুদ আর নীল রঙের সংমিশ্রণে পুরো ক্যাম্পাস এখন এক উৎসবমুখর রূপ ধারণ করেছে।
শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ
গত কয়েকদিন ধরেই কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও চারুকলার অনুরাগী একঝাঁক তরুণ-তরুণী দিনরাত পরিশ্রম করে এই আলপনার কাজ সম্পন্ন করেছেন। শিক্ষার্থীরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি বাঙালির এই চিরন্তন সংস্কৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করতেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
“আমরা চাই আমাদের নজিপুর কলেজ ক্যাম্পাসটি এই নববর্ষে পুরো জেলায় অনন্য হয়ে থাকুক। আলপনার প্রতিটি রেখায় আমরা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর নতুন বছরকে বরণের আনন্দ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।”
— অংশগ্রহণকারী একজন শিক্ষার্থী।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
নজিপুর সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতি বছরই এখানে বিশেষ আয়োজন থাকে। তবে এবারের আলপনার বিস্তার ও সৌন্দর্য অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। শুধু আলপনা অংকনই নয়, নববর্ষের দিন কলেজ চত্বরে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনেরও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
দর্শকদের ভিড়
পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহর থেকেই আলপনাটি দেখার জন্য কলেজ শিক্ষার্থী ছাড়াও স্থানীয় উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়ছে। অনেকেই প্রিয়জনদের সাথে এই রঙিন ক্যাম্পাসে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন।
পত্নীতলা তথা নজিপুরবাসীর কাছে নববর্ষের এই আলপনা এখন এক নতুন উন্মাদনায় পরিণত হয়েছে। এই শৈল্পিক ছোঁয়ার মাধ্যমেই নতুন বছরের নতুন সূর্যকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত নজিপুর সরকারি কলেজ।

