আরিফ আজাদ
ওগো প্রিয়,
নৈঃশব্দ্যের নিবিড় গহ্বরে আজও তোমারই প্রতিধ্বনি ধ্বনিত—
যেন অদৃশ্য কোনো বেদনার মৃদু মন্ত্র,
যা আমার অন্তঃকরণকে অবিরাম ক্ষরণে ভাসায়।
কী ভাষায় ডাকি তোমায়—
যে ভাষা ব্যথার ভারে নিজেই ভেঙে পড়ে?
ফিরে এসো—
এই অনন্ত শূন্যতার অবসানে,
যেখানে প্রতিটি প্রহর তোমার অনুপস্থিতির শোকগাথা রচনা করে।
তুমি চলে যাওয়ার পর
আমার দিনগুলো নিস্তব্ধ মরুভূমি—
আর রাত্রিগুলো অশ্রুসিক্ত, দগ্ধ, নির্ঘুম;
যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাসে জড়িয়ে থাকে
অপ্রকাশিত আর্তনাদের দহন।
তুমি ছিলে—
আমার হৃদয়ের গোপন স্পন্দন,
আমার আত্মার নিগূঢ় অনুরণন;
আজ সেই স্পন্দন বিষণ্নতার দীর্ঘশ্বাস হয়ে
অবিরাম ঝরে পড়ে অস্তিত্বের প্রান্তে।
যখনই হাত উঠেছে প্রার্থনায়—
রবের দরবারে উচ্চারিত হয়েছে শুধু তোমারই নাম,
রাত্রির অতল অন্ধকারে
তোমার স্মৃতিই ছিল আমার একমাত্র ইবাদত।
এ যুগ—
প্রতারণার বিষময় আবরণে আচ্ছন্ন;
এখানে বিশ্বাস ভঙ্গুর, ভালোবাসা ক্ষণস্থায়ী,
মানুষ নিজ অহংকারের পূজারি।
তবুও—
আমি খুঁজি সেই পবিত্র সান্নিধ্য,
যেখানে তোমার উপস্থিতিতে ভোরের সূর্যোদয় ঘটতো।
আমি আজও বয়ে চলেছি
সেই প্রতিশ্রুতির অবিনশ্বর ভার—
যা একদিন তোমার সাথে গাঁথা হয়েছিল অনন্তের অঙ্গীকারে।
বল—
তুমি কবে ফিরে এসে তাকে পূর্ণতা দেবে?
এই অস্থির হৃদয়—
আজও তোমারই প্রত্যাশায় নত,
একটি নাম, একটি উপস্থিতি, একটি স্পর্শ—
যার বিকল্প এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে অনস্তিত্বের সমান।
বিরহের বিষাদে আজও
আমার চোখ দুটি নিরবচ্ছিন্ন অশ্রুধারায় সিক্ত,
আমি জানি—
তোমাকে হয়তো আর ফিরে পাবো না,
তবুও এই অন্তঃস্থলে যে প্রেম জাগ্রত—
তার দীপ্তি কোনোদিন নিভে যাবে না।
কারণ—
সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো বিলীন হয় না,
সে শুধু রূপান্তরিত হয়—
অশ্রুতে, প্রার্থনায়, নিঃশব্দ অপেক্ষায়।
তুমি ফিরে এসো বা না এসো—
আমি রয়ে যাবো
তোমার স্মৃতির নিঃশেষ ভক্ত হয়ে,
এক অনন্ত প্রতীক্ষার প্রহরী হয়ে—
যেখানে প্রতিটি ধ্বনি, প্রতিটি নীরবতা
শুধু তোমাকেই ডাকে…
শুধু তোমাকেই।

