আবু বকর সিদ্দিক:-মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা-এ সরকারি রাস্তা ও খাল দখলের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।খিদিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী,উপজেলার বাসুদিয়া গ্রামে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি সরকারি রাস্তা ও ফুলকুচি-মিঠুসার খাল দখল করেছেন তিনি।স্থানীয়দের দাবি,অর্ধশতাধিক পরিবারের প্রায় ২০০ মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ এই রাস্তা।গ্রামবাসীরা জানান,দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে খাল ভরাট ও রাস্তা দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন চেয়ারম্যান।
সম্প্রতি নিজের বাড়ির আঙিনার অংশ হিসেবে রাস্তা দখল করে খালের ওপর নতুন রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি।এতে বাধা দিলে এলাকাবাসীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান।রাস্তার প্রবেশমুখে খুঁটি বসিয়ে যানবাহন চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আরিফুজ্জামান লাভলু বলেন,২০০ বছরের পুরনো রাস্তা দখল করে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা চলছে,যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন,প্রভাব খাটিয়ে দখল প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছিল।এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,এর আগেও বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে জামিনে মুক্ত হয়েছেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান।এবারও তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন,রাস্তা বন্ধ করা হয়নি,শুধু স্থান পরিবর্তন করা হচ্ছে।তিনি দাবি করেন,খালের পাশ দিয়ে নতুনভাবে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে যাতে চলাচলে সমস্যা না হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু জানান,বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে।চেয়ারম্যানকে দ্রুত দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দখলমুক্ত না করলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।এদিকে প্রশাসনের এমন আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

