আসাদুর রহমান
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রাজারহাট রেলস্টেশন এখন আর যাত্রীসেবার কেন্দ্র নয়, বরং পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। স্টেশন ভবনের চারপাশে জমে থাকা নোংরা পানি, কচু-কচুরিপানা ও আবর্জনার স্তুপ থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশন ভবনের দুই পাশে নিচু জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে জমে আছে নোংরা পানি। সেখানে জন্মেছে কচু ও কচুরিপানা। এসব পানির সঙ্গে মিশে রয়েছে বাজারের আবর্জনা, যা থেকে ছড়াচ্ছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। স্টেশন এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকাই যেন দুঃসহ হয়ে উঠেছে।
অবকাঠামোগত দিক থেকেও স্টেশনটি রয়েছে চরম অবহেলায়। ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, অনেক স্থানে ঢালাই উঠে গেছে যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বিশ্রামাগার ও শৌচাগার দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একই সঙ্গে ট্রেনে ওঠানামার জন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম না থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
রংপুরগামী যাত্রী
একরামুল হক বলেন, স্টেশনের চারপাশে এতদূর্গন্ধ যে, ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করাই কষ্টকর।
আরেক যাত্রী বলেন বাচ্চা নিয়ে এতো দূর্গন্ধে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা আখেরিজ্জান সরকার এর অভিযোগ, স্টেশন এলাকার নিচু জায়গা ভরাট না থাকায় আশপাশের কচুবাগান ও বাজারের সব ময়লা এখানে ফেলা হয়। এছাড়াও যাত্রীদের জন্য শৌচাগার না থাকায় তারা আশপাশের বাড়িতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।
স্টেশন সংলগ্ন ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে স্টেশন এই অবস্থায় পরে আছে, মেরামতের জন্য বরাদ্দ এসেছে শুনেছি, কিন্তু এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার সুমন বলেন, “ময়লার দুর্গন্ধে আমরাও অতিষ্ঠ। পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করি, কিন্তু স্থানীয়দের অসচেতনতার কারণে রাতে এখানে ময়লা ফেলা হয়। এছাড়া মসজিদের ওজুখানা ও মাছ বাজারের পানি এসে জমে।” তিনি আরও জানান, স্টেশন ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দরজা-জানালার কাজ শুরু হবে, এরপর মূল ভবনের সংস্কার করা হবে। প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে।
একসময় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাজারহাট রেলস্টেশন এখন অবহেলা ও দুর্ভোগের প্রতীক। দ্রুত সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত না করলে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

