মোঃ নাজিম উদ্দিন
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আক্তারুজ্জামান শামীমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তাঁর হাত থেকে মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ভূমিহীন পল্লির শতাধিক পরিবার। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর বরমী আঞ্চলিক সড়কের গিলাশ্বর গ্রামে কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ এ কর্মসূচি পালন করেন।
ভুক্তভোগী ফিরোজা বেগম বলেন, ‘আমাদের বসতবাড়ি নেই বলে কি আমরা মানুষ না? আমরা ভূমিহীন বলে কি আমাদের কোনো অধিকার নাই? বিএনপি নেতা আক্তারুজ্জামান শামীমের ধারাবাহিক চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চাই।’ তিনি অভিযোগ করেন, শামীমের অনুসারী আজিজুল তাঁদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালায়। একটি বাথরুম নির্মাণ করতেও চাঁদা দিতে হয়। তাঁর মেয়ে মুক্তা আক্তার বসতবাড়ি নির্মাণ শুরু করলে শামীমের লোকজন—আজিজুল, রাশিদুল, হৃদয়, মোর্শেদ, কবির, মাজাহারুল ও কলু—এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় হামলা চালিয়ে মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। মুক্তা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান তিনি।
ভূমিহীন পল্লির বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, ‘শামীমের নেতৃত্বে আমাদের বাড়িতে এসে চাঁদা দাবি করা হয়। এতে প্রতিবাদ করলে শামীম বাহিনীর সদস্য হৃদয় আমাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।’
আরেক বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, ‘বিএনপির বড় নেতা পরিচয়ে তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখায়। এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে চাঁদা দিতে হয়নি। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি।’
আজ দুপুরে শ্রীপুরের সাতখামাইর বরমী আঞ্চলিক সড়কের গিলাশ্বর গ্রামে কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ মানববন্ধন করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আক্তারুজ্জামান শামীম। তিনি বলেন, ‘একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। মারধরের ঘটনার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম।’ চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, মারধরের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ঐ মামলায় আক্তারুজ্জামান শামীমসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

