• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • ধর্মপাশায় হাওর গুলিতে অর্ধেকের বেশি বোরো ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে – কৃষকের মাথায় হাত 

     swadhinshomoy 
    21st Apr 2026 3:51 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।
    সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫টি হাওরে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত ১২ থেকে ২৮ মার্চের ভারী বৃষ্টিতে ১৬টি হাওরের প্রায় ৪১০ হেক্টর জমির ধান শীষ বের হওয়ার সময় পানিতে নিমজ্জিত হয়। এর মধ্যে সবগুলি হাওরের অর্ধেকের বেশি ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি হাওরের বাঁধ কেটে কৃষকেরা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় কৃষক গণ বিভিন্ন হাওরে পাওয়ার পাম্প ও শেলু মেশিন দ্বারা পানি নিষ্কাশন করলেও বিধিবাম থাকায় এপ্রিলের শুরু থেকে প্রতিদিন ভারি বৃষ্টি, শিলা বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত কৃষকের শত চেষ্টা ব্যক্ত করে হাওরে পানি জমে নিচু জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে বজ্রপাতে ২ জন কৃষকের প্রাণ হারিয়েছে এবং ৪ জন আহত হয়েছে।
    উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের জারারকোনা গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, বছরে এই সময়টাতে এমন ভারী বৃষ্টি অইতে জীবনেও দেহি নাই। বৃষ্টির পানি যেন আমরার ফসলের কাল অইয়া দাঁড়াইছে। উপজেলা কৃষি বিভাগে যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের কথা কয়, তার চেয়ে আরও বেশি ক্ষতি অইছে। বাড়ির পাশের বিলে ৩৫ কেয়ার জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। ধানের থোড় বের হওয়ার সময় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। এখন জমিতে ৬ ফুট পানি।
    জয়শ্রী ইউনিয়নের বাদে হরিপুর গ্রামের সফল কৃষক ছোটন তালুকদার বলেন, বর্তমান সময়ে বৃষ্টিতে অনেক পাকা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে প্রতিনিয়ত বৃষ্টির কারণে। হাওরের পানির স্বর বেড়ে যাওয়ায় হারভেস্টার দিয়েও ধান কাটারও সুযোগ মিলছে না। এতে শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা ছাড়া কোনো উপায় নেই কৃষকদের। বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় পৌঁছেছে। অথচ বাজারে ধানের দাম মন প্রতি মাত্র ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। ফলে ধান কাটার খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে আদি পদ্ধতিতে জমি ছেড়ে দিচ্ছেন, যেখানে শ্রমিক ফসলের অর্ধেক ধান নিয়ে যাবেন। তিনি আরোও বলেন, এদিকে আবার দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ধান মাড়াই ও ট্রলি দিয়ে হাওর থেকে কাটা ধান আনতে আগের চাইতে এখন বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে কৃষকদের ।
    কৃষকদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ না করলে যেটুকু ফসল বাকি আছে সেইগুলো সময় মতো ঘরে তোলা সম্ভব হবে না। এতে চলতি বোরো মৌসুমে ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। অনেক কৃষকের নিচু জমিতে ফসল করায় তারা সবকিছু হারিয়ে পাগল প্রায়,অএ এলাকার কৃষকদের একমাত্র বোরো ফসল কাঁচা ধান চোখের সামনে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের মাথায় হাত। উঁচু জমির অর্ধেক কাঁচা পাকা ধান কাটতে গিয়ে শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
    সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘুলুয়া গ্রামের কৃষক পাশা মিয়া বলেন, সার, বীজ ও সেচ-সবকিছুর খরচ বেড়েছে তবুও বোরো ৫০ কিয়ার জমি চাষ করেছি। এখন ধান কাটার সময় কিন্তু ধান পাকলেও শ্রমিক নেই। কিছু শ্রমিক পাওয়া গেলেও তারা মজুরি চায় ১২০০ টাকা রোজ। এ দামে ধান কেটে কোনো লাভ নেই, বরং জমির পাকা ধান জমিতেই পড়ে থাকুক।
    ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদ বিন খলিল রাহাত বলেন, অকাল বৃষ্টিতে উপজেলার ১৬১৭ একর জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ২০০০ একর জমির ধান ২ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত আছে। শ্রমিক ছাড়া ধান কাটার কোন বিকল্প নেই। গত সোমবার আমি মাঠে গিয়েছিলাম
    ধান কাটার শ্রমিকদের সাথে কথা বলেছি তারা আমাকে জানিয়েছে ১২০০ টাকা রোজ ধান কাটছেন। এমতাবস্থায় বাহির থেকে শ্রমিক আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    April 2026
    S M T W T F S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    2627282930