মোঃ আবদুল মোতালেব,স্টাফ রিপোর্টার – নোয়াখালী :-
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনকে কেন্দ্র করে বিএনপির রাজনীতিতে এবারও জমে উঠেছে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা ও গ্রুপিং। দলটি এ আসনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সম্মানিত উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক-কে। তিনি নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমূড়ী) আংশিক আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চীফ-হুইপ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি জাতীয় পর্যায়ে অভিজ্ঞ ও পরিচিত রাজনীতিক নেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। বিগত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ পাশে মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় সংসদের বিরোধী দলীয় চীফ – হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুকের নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের সরকার বিরোধী মিছিলে হাসিনার পেটুয়া বাহিনী হারুনের নেতৃত্বে জয়নুল আবেদিন ফারুক এর উপর যে অমানুষিক বর্বরচিত হামলা হয়েছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে কালজয়ী সাক্ষী হয়ে থাকবে। নোয়াখালীর সেনবাগের বিএনপি’র তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের নমিনেশন এর ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বলেন নির্যাতিত এই নেতাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, তার জন্য সেনবাগের জনগণ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মান রক্ষা করবে।
তবে এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় থেকে সংগঠনকে ধরে রেখেছেন কাজী মফিজুর রহমান। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং দলীয় সংকটকালেও নেতাকর্মীদের পাশে থেকে মাঠে-ময়দানে কাজ করেছেন। স্থানীয়ভাবে তাঁর জনপ্রিয়তা বেশি। তাই দলের একটি বড় অংশ মনে করছে—এইবার কাজী মফিজুর রহমানকেই প্রার্থী করা উচিত ছিল।
অন্যদিকে, প্রবাস থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসা আবদুল মান্নান, সৌদি আরব বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তাঁরও রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা, বিশেষ করে প্রবাসী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে। তাঁর অনুসারীরা মনে করেন, তিনি সেনবাগের উন্নয়ন ও দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হতেন।
কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো—সেনবাগ বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও বিভাজন এখনো কাটেনি। একপক্ষ কাজী মফিজুর রহমানকে, আরেকপক্ষ আবদুল মান্নানকে সমর্থন দিচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্তে জয়নাল আবেদীন ফারুককে প্রার্থী করা হলেও, তৃণমূলের একাংশে হতাশা দেখা দিয়েছে। এই বিভাজন যদি নির্বাচনের আগে দূর না করা যায়, তাহলে তা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে, একই আসনে জামায়াতে ইসলামী একক প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করেছে দলের জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়্যেদ আহমদ। তিনি ইতোমধ্যে সক্রিয় প্রচারণা শুরু করেছেন।
সবমিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপি বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্যে রয়েছে।
দলীয় ঐক্যের অভাব, প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ, এবং জামায়াতের স্বাধীন প্রার্থীতা—সবমিলিয়ে ২০২৫ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জন্য এই আসনটি হয়ে উঠেছে একটি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং লড়াইয়ের ক্ষেত্র। বিএনপি’র বড় একটি অংশের ধারণা দিন শেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সকল গ্রুপিং লবিং পরী সমাপ্তি ঘটে সবাই একসাথে কাজ করবে এবং বিএনপি’র শেষ স্লোগান হবে —
” তিন ভাই মিলে মিশে –
ভোট চাইবো ধানের শীষে “।

